সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
প্রবাসে অবস্থানকারীদের কেউ যদি সেখানে থাকা অবস্থায় ফরজ হজ আদায় করে তবে তাদের ফরজ হজ আদায় হবে কি? অনেক মানুষ তার মূল আবাসস্থলে থাকার পরিবর্তে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা কিংবা চাকরির সুবাদে বিদেশে/প্রবাসে বেশিরভাগ সময় অবস্থান করে এবং মাঝে মাঝে দেশে আসে। তা হতে পারে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন, লন্ডন, আমেরিকা কিংবা অন্য যে কোনো দেশ। সেসব দেশে অবস্থানকালীন সময়ে যদি তারা ফরজ হজ আদায় করে তবে কি তাদের ফরজ হজ আদায় হবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?
ফরজ হজ আদায় করার জন্য মাতৃভূমি বা নিজের মূল আবাসস্থলে থাকা শর্ত বা জরুরি নয়। বরং পৃথিবীর যে কোনো জায়গা থেকে মক্কায় পৌঁছে যথানিয়মে হজ পালন করলেই ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে। কেউ যদি কুয়েতে, কাতারে বা সৌদি আরবসহ অন্য যে কোনো দেশে ব্যবসা কিংবা কাজের সূত্রে যায়, এবং হজের মৌসুমে সুযোগ পেয়ে যথাযথভাবে হজ পালন করে, তাহলে তার ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে।

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিধানের অন্যতম। হজের মৌসুমে মক্কায় গিয়ে হজ করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।
যাদের হজ পালন করার সামর্থ্য আছে তাদের কর্তব্য দ্রুত হজ পালন করে নেওয়া। অযথা হজ পালনে দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—
تَعَجَّلُوا إِلَى الْحَجِّ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَا يَعْرِضُ لَهُ.
‘যে ব্যক্তি হজের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়।’ (ইবনে মাজাহ ২৮৮৩)
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ عَبْدًا صَحَّحْتُ لَهُ جِسْمَهُ، وَوَسَّعْتُ عَلَيْهِ فِي الْمَعِيشَةِ، يَمْضِي عَلَيْهِ خَمْسَةُ أَعْوَامٍ، لَا يَفِدُ إِلَيَّ، لَمَحْرُومٌ.
‘আমার যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেছি, সে যদি এ অবস্থায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ঘরে হজের উদ্দেশ্যে না আসে, তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।’ (ইবনে হিববান ৩৬৯৫)
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—
مَنْ لَمْ يَحْبِسْهُ مَرَضٌ، أَوْ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ، أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ، فَلَمْ يَحُجَّ، فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا، وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا.
‘হজ পালনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনো গুরুতর সংকট, কোনো জুলুমকারী শাসকের বাধা কিংবা চলাচলে অক্ষম করে দেওয়া কোনো রোগ, এরপরও সে হজ না করে মারা যায়, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক, কিংবা চাইলে খ্রিস্টান হয়ে মরুক! (সুনানে দারেমি: ১৮২৬)
তাই প্রবাসে থাকা অবস্থায় হজ পালনের সুযোগ পেলে হজ পালন করে ফেলা কর্তব্য। ফরজ হজ আদায়ের ক্ষেত্রে অযথা দেরি করা ঠিক নয়।









