সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ (শুল্ক) বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা এবং শিপিং লাইন ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের বেআইনি কার্যক্রমে আটকে থাকা পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধারে সহায়তা করার বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোর্ট অ্যান্ড শিপিং বিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজিএমইএ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে গত মঙ্গলবার এই সভা অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টি জানানো হয় গতকাল বৃহস্পতিবার।
সভায় বিজিএমইএ নেতারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধি এক মাসের জন্য স্থগিত করায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিজিএমইএ নেতারা এই ট্যারিফ বৃদ্ধি আরো এক বছর স্থগিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
সভায় বক্তারা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এবং শিপিং লাইনের (এমএলও) রপ্তানি পণ্য চালান বিদেশি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করছে। বিদেশি কনসাইনির ব্যাংকের এনডোর্সকৃত ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্ট ছাড়া রপ্তানি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কারণে দীর্ঘকাল ধরে অনেক পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসিত হয়নি।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে চট্টগ্রামের চারটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ উদ্ধারের আবেদন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে যাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার সম্ভব হয়নি। শিপিং লাইনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেই উচ্চ আদালতে রিট এবং ভয়ভীতির কারণে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো একপ্রকার ধরেই নিয়েছে যে তাদের প্রতিকারের কোনো পথ খোলা নেই।
সম্প্রতি বিজিএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেলো ফ্যাশন লিমিটেডের তিন লাখ ৯৬ হাজার ৪৪৮.৮০ মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি পণ্য ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়া ‘ওয়ানলাইন শিপিং’-এর বিদেশি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের ঘটনাটি আবারও এই সমস্যাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে আটকে থাকা ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ উদ্ধারে বিজিএমইএ সহযোগিতা করবে বলে নেতারা আশ্বস্ত করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পোর্ট অ্যান্ড শিপিং বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। সভায় আরো বক্তব্য দেন বিজিএমইএ পরিচালক ও পোর্ট অ্যান্ড শিপিং বিষয়ক স্থায়ী কমিটির পরিচালক ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ মনসুর, বিজিএমইএ পরিচালক এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক ও পোর্ট অ্যান্ড শিপিং বিষয়ক স্থায়ী কমিটির উপদেষ্টা এ এম মাহবুব চৌধুরী এবং পোর্ট অ্যান্ড শিপিং কমিটির সদস্য বিজয় শেখর দাশ, কাজী মো. শফিকুল ইসলাম (টিটু), মো. আবদুল বারেক, মো. তসলিম আরিফ প্রমুখ।









