অর্থ ও বাণিজ্য

পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা: সিন্ডিকেটের কাছে এখনও জিম্মি ভোক্তারা

নিউজ ডেস্ক২৬ নভেম্বর ২০১৯৯ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’। রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছে ভোক্তাদের। শুধু তাই নয়, এই সিন্ডিকেট কারসাজিতে এক রকম নিষ্ফল হতে চলেছে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের যাবতীয় পদক্ষেপ।

ফলে বাজারে আমদানি করা ও নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না দামের ঊর্ধ্বগতি। কয়েকদিনের জন্য কিছুটা কমলেও গত দুই দিনে আবার বাড়তে শুরু করেছে নিত্যদিনের এই পণ্যটির দাম।

সোমবারও রাজধানীতে পাইকারি বাজারে কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫০-২২০ টাকা। আর খুচরা বাজারে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বিক্রি হয়েছে ২০০-২৫০ টকা। ঢাকার বাইরের চিত্রও প্রায় একইরকম বলে জানিয়েছে যুগান্তরের ব্যুরো ও জেলা প্রতিনিধিরা।

এদিকে পেঁয়াজের মূল্য কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সোমবার ১৪ জন আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আজ মঙ্গলবার আরও ৩৩ জন আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আমদানিকারকরা আমদানি ও বিক্রির তথ্য জমা দিয়েছে। কি পরিমাণ মজুদ আছে, কারসাজির সঙ্গে জড়িত কিনা- এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর আগেই কম দামে যেসব পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল সেগুলোই কারসাজি করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। ভারত দাম বাড়ানোর পর দেশে খুব বেশি পেঁয়াজ আসেনি।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বুধবার  বলেন, পেঁয়াজের ব্যাপারে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে ‘পলিসি’তে ভুল ছিল। দেশের পলিসি হল প্রতিক্রিয়াশীল। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর উদ্যোগ নেয়া হয়। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে এই সমস্যা হতো না।

আর সরকারের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে সিন্ডিকেট। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজের চাহিদা নতুন করে তৈরি হয়নি। চাহিদা আগেও যা ছিল, এখনও তা আছে। কিন্তু সরবরাহে সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমরা ভারতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশটিতে এবার উৎপাদন কম হয়েছে, এটা মোটামুটি সবার জানা ছিল।

বিশেষ করে পণ্যটি নিয়ে যে মন্ত্রণালয় কাজ করে, তাদের না জানার কথা নয়। প্রশ্ন হল ওই সময় কেন ব্যবস্থা নেয়া হল না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে যেভাবে আগ্রাসীভাবে আমদানি করা হচ্ছে, এটি আগে করা হলে সংকট তৈরি হতো না। তার মতে, সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। আর এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়ার দায়িত্বও সরকারের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম কমাতে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ এখনও সিন্ডিকেটে কারসাজিতে ফলপ্রসূ হচ্ছে না। সম্প্রতি প্রশাসনের নজরদারিতে পেঁয়াজের কেজি ২৬০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এলেও তা স্থায়ী হয়নি। গত শনিবার থেকে এর দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পণ্যটির দাম ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা একদিন আগে (রোববার) ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হয়। আর পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা।

এদিকে সোমবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০-৬০ টাকা। পিরোজপুরের নজিরপুরে বাজারগুলোতে পেঁয়াজ নেই। রোববার থেকে এ অঞ্চলের বাজার পেঁয়াজশূন্য। একদিনের ব্যবধানে শেরপুরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা। যা একদিন আগে (রোববার) বিক্রি হয়েছে ২২০-২৩০ টাকা।

আর গত শনিবার বিক্রি হয় ১৮০-২০০ টাকা। এছাড়া আমদানি করা মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা। যা একদিন আগে একই দামে বিক্রি হয়েছে। তবে গত শনিবার আমদানি করা এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৬০-১৭০ টাকা।

রাজধানীর নয়াবাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আলী হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দামের পরিবর্তন হচ্ছে। সকালে এক দাম আবার বিকালে আরেক দামে বিক্রি হচ্ছে। আজ সকালে (সোমবার) পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে গিয়ে দেখি দেশি পেঁয়াজ নেই। আর যাও আছে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। যে কারণে বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা দরে। যা রোববার একই দামে বিক্রি হয়। আর শনিবার বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা।

এছাড়া মিয়ানমারে ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। যা একদিন আগে বিক্রি হয় ১৪০ টাকা। মিসর ও চায়নার পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা।

শ্যামবাজারের আড়তদার ও আমদানিকারক সংকর চন্দ্র ঘোষ বলেন, আড়তে পেঁয়াজ নেই। বর্তমানে সত্যি দেশি পেঁয়াজ শেষ। কারণ মৌসুম শেষ। নতুন পেঁয়াজ এলেই আবার সরবরাহ বাড়বে। এছাড়া যে কয়েক টন মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পেঁয়াজ আছে তা কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার আশরাফ বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পেঁয়াজ তিন থেকে চার গাড়ি পেঁয়াজ আসত, সেখানে আজ (সোমবার) সকালে পেঁয়াজের একটি মাত্র গাড়ি এসেছে। যেখানে ১০০ বস্তা পেঁয়াজ ছিল। তাই বাজারে পেঁয়াজ সংকট আছে। চাহিদা দিয়েও আমরা পেঁয়াজ পাচ্ছি না। আর যাও পাচ্ছি দাম বেশ চড়া।

জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে এখনও পেঁয়াজের দামে লাগাম টানা যায়নি। তবে সরকারের উচিত যারা কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে এমন ৩৪১টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে এনবিআর। এর মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহায়তা নেয়া হবে। এদিকে এসব প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক তলব করা হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, কারসাজি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগে দেশের শীর্ষ ৪৭ পেঁয়াজ আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। বিশেষ করে যারা এক হাজার টনের বেশি আমদানি করেছে তাদের এর আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার ১৪ আমদানিকারককে রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা কার্যালয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কারসাজির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ভারত রফতানি বন্ধ করার পর তারা কোনো পেঁয়াজ আমদানি করেননি।

তাহলে কেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দা বলছেন, আমদানির পর কারা মজুদ করেছে তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজার সহনীয় করতে সরকারের নির্দেশে কাস্টমস গোয়েন্দা এমন উদ্যোগ নিয়েছে। আজ বাকি ৩৩ ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কাস্টমস গোয়েন্দা।

সোমবার শুনানিতে যেসব প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের রিজু রিটু এন্টারপ্রাইজ, টিএম এন্টারপ্রাইজ, কানসাটের আরএম অ্যাগ্রো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নূর এন্টারপ্রাইজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোডের বিএইচ ট্রেডিং, নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবনগরের টাটা ট্রেডার্স, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের হুদা ইন্টারন্যাশনাল, বিশাল এন্টারপ্রাইজ, রাজশাহীর আলী অ্যান্ড সন্স।

শুনানিতে অংশ নেয়া এমএস বিশাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল আওয়াল বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের হাত নেই। আমাদের কাছে পেঁয়াজ একদিন বা দু’দিনের বেশি থাকে না। আমরা নির্দিষ্ট মুনাফা করে পেঁয়াজ বিক্রি করি। দাম নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের দায়িত্ব। এখানে আমাদের হস্তক্ষেপ নেই।

নজরুল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের পর আমরা আর কোনো পেঁয়াজ আমদানি করিনি। আর ভারত রফতানি বন্ধের পরেই তো বাজার অস্থির। আমাদের যে অভিযোগে ডাকা হয়েছে তার সঙ্গে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৪০-৪৫ পয়সা লাভ করি। ট্রাক থেকে ট্রাকে স্থানান্তর করি। মজুদ করব কিভাবে? আলী রাইস এর স্বত্বাধিকারী শুক্কুর আলী বলেন, সরকারের সব সংস্থা থেকে আমাদের তলব করা হচ্ছে। আমরা তো মজুদদার না। আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

শুনানি শেষে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ১ আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত গত সাড়ে ৩ মাসের তথ্য নিয়ে আমরা দেখেছি এর মধ্যে যারা বড় আমদানিকারক বা এক হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছেন, তাদের আমরা ডেকেছি।

তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। তারা কোথায় কোথায় বিক্রি করেছেন, কি মূল্যে বিক্রি করেছেন তা দেখা হচ্ছে। আমদানি মূল্য, কত টন আমদানি করেছেন তা আমাদের কাছে রয়েছে। পরে কোন কোন ধাপে বিক্রি হল, এখন পর্যন্ত তার হাতে কতটুকু মজুদ আছে সেটা জানার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, ৪৭ জনকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ১৪ জন এসেছেন। তাদের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। আশা করছি তাড়াতাড়ি পেঁয়াজের বাজার সহনশীল হয়ে যাবে। কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আসছে।

যাত্রীবাহী বিমানেও কিছু পেঁয়াজ আসছে। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে, কোনো ঘাটতি নেই। ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সহনীয় মূল্যে, কম লাভে তারা যেন পেঁয়াজ বিক্রি করেন।

আমদানিকারদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী কি ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে মহাপরিচালক বলেন, এনবিআরের নির্দেশে আমরা কাজ করছি। বেশি দামে বিক্রি করেছে কিনা, কতদিন রেখেছিল এসব আমরা বের করার চেষ্টা করছি। আশা করছি একটা পজেটিভ রেজাল্ট পাব।

অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সব ডিপার্টমেন্ট একসঙ্গে কাজ করছি, যাতে জনসাধারণ ভোগ্যপণ্য সহজে পেতে পারেন। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের থেকে কারসাজির কোনো তথ্য পাওয়া গেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর সার্বিক চিত্র বলা যাবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়- অভিযান, গ্রেফতার, জরিমানা কিংবা কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রকাশসহ প্রশাসনের নানা উদ্যোগ কিছুই যেন কাজে আসছে না। সব উদ্যোগই ভেস্তে যাচ্ছে। মাঝে কয়েকদিন দাম কিছুটা কমলেও রোববার থেকে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবারও যে পেঁয়াজ মান ভেদে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ৩ দিনের ব্যবধানে একই বাজারে সেই পেঁয়াজ রোববার থেকে কেজিতে ৪০-৬০ টাকা বেড়ে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে আবারও সেই আগের মতো অর্থাৎ ২২০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনে ব্যবধানে আবারও পেঁয়াজের এ ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্রেতাদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে।

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার শেরপুরে বাজার মনিটরিংয়ের তৎপরতা না থাকায় আবারও পুরাতন-নতুন সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে বাজারে পেঁয়াজের সংকটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন পেঁয়াজ কিনতে।

সোমবার সকালে শেরপুর পৌর শহরের বারদুয়ারী হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন দেশি পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে ২২০-২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুড়িকাটা নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা।

নাজিরপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের নাজিরপুর রোববার দুপুর থেকে পেয়াজশূন্য হয়ে পড়েছে। আবার দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত ৩ দিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও সোমবার বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকা দরে।