পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঁঃ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি পানির ট্যাংক ও সাবমারসিবল পাম্প খুলে নিজ বাড়িতে স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় পানির ট্যাংকটি উদ্ধার করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বারইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রওশনারা বেগম ও তাঁর ছেলে সোহাগ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য সাবমারসিবল পাম্প ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামেও একটি পানির ট্যাংক ও সাবমারসিবল স্থাপন করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে মহিলা সদস্যের বাড়িতে পানির লাইন সংক্রান্ত কাজ চলছিল। শনিবার হঠাৎ দেখা যায়, সরকারি পানির ট্যাংকটি খুলে ফেলে সেটি মহিলা সদস্যের ছেলের বাড়ির ছাদে স্থাপন করছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পানির ট্যাংকটি সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের তৎপরতায় ট্যাংকটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত সোহাগ হোসেন বলেন, ‘আমার মা এ বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না। আমি ভেবেছিলাম ট্যাংকটি বাড়ির ছাদে বসিয়ে নিচে একটি লাইন দেব, যাতে সাধারণ মানুষও প্রয়োজনে পানি নিতে পারে। তবে ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত।’
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রওশনারা বেগম বলেন, ‘পানির ট্যাংক সরানো বা স্থাপনা ভাঙার বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে বিষয়টি জানতে পারি। আমার ছেলে যে কাজ করেছে, তা নিন্দনীয়। ট্যাংকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাহাবুল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুঠিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের একজন কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পানির ট্যাংকটি উদ্ধার করে উপজেলা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সাবমারসিবল পাম্পও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।









