ধর্ম

পরিবারে সমতা ও ন্যায়বিচারের নববী শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক১২ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

পরিবারে ন্যায়বিচার ও সমতার শিক্ষা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে সন্তানদের প্রতি আচরণ, ভালোবাসা এবং সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় আবেগ বা বিশেষ কারণে বাবা-মা কোনো এক সন্তানকে বেশি কিছু দিয়ে বসেন, যা অন্যদের প্রতি অবিচার হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

নিচের হাদিসে মহানবী (সা.) সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন-
عَنْ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُوْلُ أَعْطَانِيْ أَبِيْ عَطِيَّةً فَقَالَتْ عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ لَا أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّيْ أَعْطَيْتُ ابْنِيْ مِنْ عَمْرَةَ بِنْتِ رَوَاحَةَ عَطِيَّةً فَأَمَرَتْنِيْ أَنْ أُشْهِدَكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَعْطَيْتَ سَائِرَ وَلَدِكَ مِثْلَ هَذَا قَالَ لَا قَالَ فَاتَّقُوْا اللهَ وَاعْدِلُوْا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ قَالَ فَرَجَعَ فَرَدَّ عَطِيَّتَهُ.

আমির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনে বাশীর (রা)-কে মিম্বরের ওপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষী রাখা ব্যতীত সম্মত নই। তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি।

হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য সে আমাকে বলেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ রকম করেছ? তিনি বললেন, না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। (বুখারি, হাদিস : ২৫৮৭)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন।

সন্তানদের মধ্যে ভালোবাসা, উপহার বা সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নু‘মান ইবনু বাশীর (রা.)-এর পিতা তাকে বিশেষভাবে কিছু দান করেছিলেন। কিন্তু যখন বিষয়টি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থাপন করা হয়, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন; সব সন্তানকে কি একইভাবে দান করা হয়েছে? যখন জানা গেল তা করা হয়নি, তখন তিনি সতর্ক করে বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর।’
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বাবা-মায়ের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিবারে হিংসা, কষ্ট ও বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইসলামে সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই শিক্ষা কেবল সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালোবাসা, যত্ন ও আচরণের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। যে পরিবারে ন্যায় ও সমতা বজায় থাকে, সেখানে শান্তি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকে।