অর্থ ও বাণিজ্য

দেড়শ’ কোটি টাকা খরচেও বাড়েনি উৎপাদন মান

নিউজ ডেস্ক১৯ জুলাই ২০১৮৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ১৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু রয়ে গেছে নানা ত্রুটি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরও সার্বিকভাবে উৎপাদন ক্ষমতা এবং গুণগত মান বৃদ্ধি পায়নি।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয় ‘সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির। গত বছরের শেষ দিকে সরেজমিন পরিদর্শন করে মূল্যায়ন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

এতে সংস্থাটি বলেছে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য আপাত দৃষ্টিতে অর্জিত হয়েছে। তবে জনবল সংকট, সপের ফ্লোর অসমতল, যেসব গাটার ও চালা পরিবর্তন করা হয়নি সেগুলোর বেশির ভাগের ছাদ চুয়ে মেঝেতে বৃষ্টির পানি পড়া, ড্রেন অপরিষ্কার, কয়েকটি মেশিন অচল এবং ন্যূনতম সেইফটি ও সিকিউরিটি ছাড়া গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ করায় কারখানার দক্ষতা বৃদ্ধি পেলেও সার্বিকভাবে উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধি পায়নি। গত এপ্রিলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আইএমইডি।

এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি বিষয়টি আমার নজরে এখনও আসেনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে কোনো সমস্যা থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আইএমইডির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইএমইডির দু’জন কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ছিল ২০০৯ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ ৩ বছর ৩ মাস।

কিন্তু প্রকল্পটি শেষ হতে সময় লেগেছে ৮ বছর ১ মাস। অর্থাৎ ১৪৬ শতাংশ সময় বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ প্রদান না করা, বারবার দরপত্র আহ্বান করেও রেসপনসিভ দরদাতা না পাওয়া, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুমোদন না করা এবং ঠিকাদারের মালামাল সরবরাহ ও স্থাপনে দেরি হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১২২ কোটি ২২ লাখ টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ১৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ প্রতিবেদনটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে পূর্ত কাজ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সপের ফ্লোর অসমতল, ফ্লোরের সিমেন্ট প্লাস্টার ক্ষয় এবং যেসব গাটার ও চালা পরিবর্তন করা হয়নি সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি মেঝেতে জমে থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া সপগুলোর ভেতর ও বাইরে অনেক স্থানে ড্রেন ময়লা-আবর্জনা দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে থাকতে দেখা গেছে। পেইন্ট সপ ও ক্যারেজ সপের মাঝের ট্রান্সফরমার টেবিলের মধ্যবর্তী ড্রেনের পানি অপসারণ হচ্ছে না। পেইন্ট অ্যান্ড জিওএইচ সপ, ক্যারেজ হেভি রিপেয়ার সপ এবং ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন হুইল সপে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক পূর্ত কাজ করা হয়নি।

এ স্থানগুলোর অবস্থা বেশি শোচনীয় মনে হয়েছে। স্মিথী সপে ফ্লোর কংক্রিট ঢালাই করা হয়নি এবং অয়েল বার্নার বা ফার্নেসের ওপর ছাদের উচ্চতা প্রয়োজনের তুলনায় কম মনে হয়েছে।

রেলওয়ে ট্র্যাক পুনর্বাসন সংক্রান্ত কাজ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, একই ট্র্যাকে ৯০ পাউন্ড ‘আর’ এবং ৭৫ পাউন্ড ‘আর’ রেল পাশাপাশি ব্যবহার করায় রেললাইনের অ্যালাইনমেন্টে গরমিল দেখা গেছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। একটি পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিং যথাযথভাবে মেলাতে না পেরে আংশিক রেল কেটে সংযুক্ত করা হয়েছে। রেল ট্র্যাকে জরাজীর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত উডেন স্লিপার দেখা গেছে। অনেক স্থানে ট্র্যাকের ওপর বালু পড়ে ঘাস জন্মে রেল ও স্লিপার ঢেকে যেতে দেখা গেছে। ফলে রেল ও স্লিপারের ক্ষয় ত্বরান্বিত হচ্ছে।

মেকানিক্যাল প্লান্টস অ্যান্ড মেশিনারি স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় অধিকাংশ মেকানিক্যাল প্লান্টস ও মেশিনারিজ কার্যকর দেখা গেলেও রোবার স্প্রিং ইউনিটটেস্ট প্লান্ট এবং সক এবজরবার টেস্ট প্লান্ট মেশিন দুটি ব্রেক ডাউনে রয়েছে। এছাড়া কর্মচারীরা নিরাপত্তা পোশাক এবং কোনো প্রকার সেফটি ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা ছাড়াই গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ করছেন। আলোচনা করে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলেও ৬০ শতাংশ জনবল ঘাটতির কারণে আশানুরূপভাবে কারখানা উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধি পায়নি। তবে আগের তুলনায় কারখানার দক্ষতা বেড়েছে।