
দেশে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনের কারণে মোটরসাইকেলের দাম খানিকটা কমেছে। ফলে বিক্রিও বেড়েছে। ছয়-সাত বছর আগেও ব্র্যান্ডের একটি মডেলের মোটরসাইলের দাম ছিল দেড় লাখ টাকা। সেই মোটরসাইকেলটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার টাকায়। এ কারণে দেশজুড়ে মোটরসাইকেলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং ও ই-কমার্স ডেলিভারিসহ নানা ব্যাবসায়িক কাজেও বাড়ছে মোটরসাইকেলের চাহিদা।
২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল বাজারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বাজার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি মোটরসাইকেল এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে মোটরসাইকেল শিল্পে বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বাজার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েক বছর মোটরসাইকেল খাতে ৩০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে অন্য সব খাতের মতো মোটরসাইকেলের প্রবৃদ্ধির গতিও কিছু কমে যায়। গত বছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে পাঁচ লাখ ৭০ হাজারটি। এখন দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করায় আবার মোটরসাইকেলশিল্পের গতি বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এক লিটার জ্বালানি তেলে ১০০ সিসি-১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল ৫০ কিলোমিটারের বেশি চালানো যায়। গণপরিবহনের দুর্দশায় অনেকেই মোটরসাইকেল বেছে নিচ্ছে।

জানা যায়, দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকেই দাম এক লাফে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। যার কারণে তখন থেকেই মোটরসাইকেলের বিক্রি আগের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে। গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় বিক্রি খুবই কম ছিল। এ বছরের শুরুতে মোটরসাইকেল ভালোই বিক্রি হচ্ছিল। পরে আবার জুলাইয়ে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর জন্য দীর্ঘদিন শোরুম বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন আবার সব কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় চলতে শুরু করেছে তাই মোটরসাইকেল বিক্রিও বাড়ছে। বিক্রি বাড়াতে ও ক্রেতা আকর্ষণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলে ডিসকাউন্টসহ বেশ কিছু অফারও দিচ্ছে কম্পানিগুলো।
রানার তেজগাঁও শোরুমের ম্যানেজার উবায়দুল ইসলাম রনি বলেন, ‘এখন স্বাভাবিক সময়ের মতোই মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছু মানুষ এখন গণপরিবহন পরিহার করে অফিসে যাতায়াতের জন্য বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল কিনছেন। আমাদের এই শোরুমে দৈনিক পাঁচ-ছয়টি বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। এখন অল্প দামে ৮০ সিসি রানার ডিলাক্স মোটরসাইকেল বিক্রি বেশি হচ্ছে।’
শোরুমের বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের মতো বিক্রি করতে না পারলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে এবং অফিসে যাতায়াতের জন্য অনেক কর্মজীবী মোটরসাইকেল কিনছেন।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের মোটরসাইকেলের বাজার ছিল আমদানিনির্ভর। দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ শিল্পে সুবিধাজনক শর্তের বিপরীতে করছাড় দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে মোটরসাইকেলের দাম ক্রেতার নাগালে চলে আসে।
সূত্রঃ কালের কণ্ঠ








