সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রার বাজার প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাজারে দৈনিক টার্নওভার ৫ লাখ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুদ্রার মধ্যে যেটির লেনদেন যত বেশি, সেই মুদ্রা তত বেশি সচল।
এ হিসেবে সবচেয়ে সচল মুদ্রা মার্কিন ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে সচল ২০টি মুদ্রার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মুদ্রার মধ্যে শুধুমাত্র ভারতীয় রুপি স্থান পেয়েছে। বৈশ্বিক মুদ্রায় ভারতীয় রুপির অবস্থান ১৭তম। আর এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে এটির অবস্থান ষষ্ঠ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ লেনদেন করা হয় মার্কিন ডলারে। আর ভারতীয় রুপি লেনদেন হয় ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

ভারতে আর্থিক সরঞ্জামগুলো ও ‘হুন্ডি’-র বিখ্যাত ঐতিহ্য আছে। ভারতের মুদ্রা রুপির প্রচলন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)’ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। ১ রুপি ১০০ পয়সায় বিভক্ত। ভারতে বর্তমানে ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১ রুপি, ২ রুপি ও ৫ রুপি মূল্যের ধাতব মুদ্রা পাওয়া যায়। ৫০ পয়সা অবধি মুদ্রাগুলোকে ‘খুচরা পয়সা’ ও ১ রুপি ও তার বেশি মুদ্রাগুলোকে ‘খুচরা রুপি’ বলা হয়। কয়েনেজ অ্যাক্ট ১৯০৬ অনুযায়ী ১০০০ রুপি মূল্য পর্যন্ত কয়েন বাজারে ছাড়া যাবে। অন্যদিকে ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ২০০০ ব্যাংকনোটও বাজারে রয়েছে।
২০১০ সালের ১৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট রুপির একটি প্রতীক নির্বাচন করেন। এই নতুন প্রতীকটি দেবনাগরীর ‘র’ ও রোমান বড় হাতের ‘আর’ অক্ষরদুটির সংমিশ্রণে সৃষ্ট। এর আগে আরএস কথাটিকে রুপির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
ভারতে কাগজের মুদ্রা শুরু হয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে যখন বেসরকারি এবং আধা সরকারি ব্যাংকগুলো মুদ্রা প্রচলন করতে শুরু করেছিল। ১ এপ্রিল ১৯৩৫ সালে রিজার্ভ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত ভারত সরকার ব্যাংক নোট ছেপেছে ও তা বাজারে ছেড়েছিলেন। জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে প্রথমবার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক সম্রাট ষষ্ঠ জর্জের ছবি সংবলিত পাঁচ রুপির নোট ছেড়েছিল। তারপর ফেব্রুয়ারিতে ১০ রুপির নোট, মার্চে ১০০ রুপির নোট ও জুন ১৯৩৮ শে ১০০০ ও ১০০০০ রুপির নোট ছেড়েছিল। ১৯৪৭ এবং তার পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ পর্যন্ত এই ষষ্ঠ জর্জের ছবি সংবলিত নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল, তারপর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অশোক স্তম্ভের তিনমুখি সিংহের চিহ্ন সংবলিত নোট বাজারে ছাড়া হয়।
১৯৯৬ সাল থেকে মহাত্মা গান্ধীর ছবি সংবলিত নোট ছাড়া হয়ে থাকে। এমজি সিরিজের সব ব্যাংকনোটগুলোতে সামনের দিকে মহাত্মা গান্ধীর ছবি থাকে অশোকস্তম্ভের ছবির জায়গায়, যেটিকে সামনের দিকেই একপাশে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর অর্থ এই ব্যাংক নোটগুলোতে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ও জলছাপ দুই আছে। ২০০০ সালে নোটগুলোতে কিছু বিশেষ নিরাপত্তার বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যেমন- অপ্টিকালি ভেরিয়েবেল ইনক এবং ওমরন অ্যান্টি-ফোটেকপি বৈশিষ্ট্যগুলো সামনে ও পেছনে দুই দিকেই রাখা হয়েছিল।
মহাত্মা গান্ধী (এম-জি) ১৯৯৬ সিরিজের নোটগুলোতে অনেকগুলো বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে : সুরক্ষা ফিতা, লুকানো ছবি, অনু লেখা, শনাক্তকরণ চিহ্ন, উঠিত ছাপা, ব্যাংকনোটের নম্বর প্যানেলগুলো জ্বলজ্বলে কালিতে ছাপা হয়, দৃশ্যত পরিবর্তনীয়, ওমরন অ্যান্টি-ফোটেকপি বৈশিষ্ট্য এবং জলছাপ।
৮ নভেম্বর ২০১৬, মধ্যরাত থেকে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাজার থেকে তুলে নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। জাল নোট ব্যবহারের দ্বারা তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ অর্থায়ন ও কালো টাকা প্রতিরোধ এ নোট বাতিলের লক্ষ্য বলে জানায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এরপর নতুন ৫০০ এবং ২০০০ রুপির নোট প্রচলনের ঘোষণা করে সরকার? ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাজারে প্রথম আসে দু’হাজার রুপির নোট।
এই নোটটির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- স্বচ্ছ রেজিস্টার, আলোয় ধরলে রুপির অঙ্ক ২০০০ স্পষ্ট দেখা যাবে, ল্যাটেন্ট ইমেজ চোখে ৪৫% কোণে ধরলে রুপির অঙ্ক ২০০০ স্পষ্ট দেখা যাবে, দেবনাগরি হরফে লেখা রুপির অঙ্ক ২০০০, নোটের কেন্দ্রে মহাত্মা গান্ধীর ছবি, মাইক্রো লেটারে আরবিআই লেখা, রং বদলানো সিকিউরিটি থ্রেড তাতে আরবিআই লেখা, গ্যারান্টি ক্লজ, আরবিআই গভর্নরের সই, ঋণপত্রের স্বীকৃতি, মহাত্মা গান্ধীর ছবি ও ইলেকট্রটাইপ (২০০০) জলছবি, নম্বর প্যানেল, ডানদিকে অশোক স্তম্ভের ছবি, মহাত্মা গান্ধীর ‘উঁচু করা’ প্রিন্ট, অশোক স্তম্ভের ছবি, আইডেন্টিফিকেশন মার্ক, আড়াআড়ি চতুর্ভূজ তাতে ২০০০ লেখাটি ‘উঁচু করা’ প্রিন্ট, ডান ও বাঁদিকে সাতটি ‘উঁচু করা’ কৌণিক লাইন, কোন সালে ছাপা হয়েছে তা লেখা, স্বচ্ছ ভারত লোগো ও স্লোগান, কেন্দ্রের কাছাকাছি বিভিন্ন ভাষায় লেখা নোট ও মঙ্গলযানের ছবি।









