জাতীয়

তৃতীয় দিনেও গ্রেপ্তার নেই, হামলার শিকার পরিবারে আতঙ্ক

নিউজ ডেস্ক১১ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

রংপুর নগরীতে যুবদলকর্মী রাকিবুল ইসলাম (২২) হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী হামলার ঘটনা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত রাকিব নগরীর বৈরাগীপাড়ার আব্দুস সামাদের ছেলে। এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মো. মমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এর জেরে গত বছরের ১৪ নভেম্বর মমিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রাকিবের বাবা। পরিবারের দাবি, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আগের মামলা আর শত্রুতার জেরেই একা পেয়ে রাকিবকে হত্যা করে পালিয়ে যায় মমিন ও তার লোকজন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার রাতে দেড় শ থেকে ২০০ জনের একটি দল হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়।
হামলার শিকার পরিবারের একজন বলেন, ‘হঠাৎ করে অনেক লোক এসে গালিগালাজ করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, ‘অনেক লোক এসে গালাগাল করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।

আমরা খুব ভয় নিয়ে আছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যদিকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায় বলেন, ‘এ ধরনের হামলা খুবই উদ্বেগজনক। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড ও এর জেরে পরবর্তী হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন (শনিবার বিকেল ৪টা) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বর্তমানে তাঁতিপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবু পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন সহিংস ঘটনা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে ঘিরে ফেলা হয় এবং লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি সামনে এলেও, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, হত্যাকাণ্ড ও এর জেরে পরবর্তী হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পূর্ব শত্রুতা, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।