সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হওয়াকে এক-এগারোর বহুল আলোচিত মাইনাস টু ফর্মুলার ‘সংশোধিত সংস্করণ’ বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন ও দুর্বল করে দেওয়ার জন্য এই সরকার তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

“দুই নেত্রীকে মাইনাস করার জন্য এক-এগারোতে যে মাইনাস টু ফর্মুলা ছিল, সেটিই এখন সংশোধিতভাবে তাদের ধারাবাহিকতায় হাসিনা সরকার মাইনাস ওয়ান করার ষড়যন্ত্র করছে। তারেক রহমানের রায়ও এই ষড়যন্ত্রের অংশ।”
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপ লাউঞ্জে ‘সাপ্লিমেন্টারি ক্রেডিট কার্ড এবং তারেক রহমানের সম্প্রতি মামলার ক্ষেত্রে এর প্রভাব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘ব্যারিষ্টারস ফর চেইঞ্জ’ নামের একটি সংগঠন।
বিএনপিকে গ্রীক রূপকথার ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দুর্বল বা নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তুপ থেকেও উঠে দাঁড়াবে। তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে সরকার যাতে নেতা-কর্মীদের দৃষ্টি ভিন্নদিকে ফেরাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফেরাতে বিএনপির আন্দোলন চলছে, চলবে জানিয়ে দলটির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলেও সেই আন্দোলন থামবে না। আন্দোলন করেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
নিম্ন আদালত থেকে খালাস পাওয়া মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন মোশাররফ।
বিএনপির জাতীয় ঐক্যে সরকার সাড়া না দেওয়ায় এর সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্যের রাউন্ড ওয়ার্ক চলছে। আওয়ামী লীগ এবং ওই ঘরানার কোনো দল যদি তাতে সাড়া নাও দেয় তবে জাতীয় ঐক্য থেমে থাকবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য ঠিকই গড়ে তোলা হবে।
জঙ্গিবাদ রূখে দেওয়া সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে জাতীয়ভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে দেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সে জন্য দেশের স্বার্থে ও স্বাধীণতা-স্বার্বভৌমত্বের স্বার্থে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। বিশ্বাস করি গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত এবং জাতীয় ঐক্য হলে জঙ্গিবাদকে রুখে দেওয়া সম্ভব।’
সরকার প্রকৃত জঙ্গিদের খুঁজে বের করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারছে না দাবি করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, জঙ্গিদের ধরার পর সরকার ক্রসফায়ারের নামে তাদের মেরে ফেলছে। কেন সরকার এসব অ্যাভিডেন্স (প্রমাণিক তথ্য) ধ্বংস করে ফেলছে? এর ফলে মানুষ মনে করে, জঙ্গিবাদ দমনে তারা আসলেই আন্তরিক কী না?
দেশে গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকার কারণে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে জঙ্গিবাদের আবির্ভাব হয়। ডানপন্থি, বামপন্থি বা অন্য কোনো পন্থি জঙ্গিবাদ হতে পারে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের পদক্ষেপ না নিয়ে দোষারোপের রাজনীতির কারণে প্রকৃত জঙ্গিরা ‘ফুলে ফেপে উঠতে এবং ট্রেনিং করে প্রস্তুত’ হওয়ার সময় পেয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার জাকির হোসেনের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাভোকেট জয়নাল আবেদিন, বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।
সূত্র: রাইজিংবিডি









