অর্থ ও বাণিজ্য

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনে সরকারের প্রতি বিএটিটিপির কৃতজ্ঞতা

নিউজ ডেস্ক২৭ ডিসেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

উপদেষ্টা পরিষদ বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএটিটিপি)। এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ এক যুগ পর গৃহীত সরকারের এই পদ্ধক্ষেপ দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবে। পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসহ নতুন প্রজন্মের তামাক ও নিকোটিন পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি যুগান্তকারী সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
অনুমোদিত অধ্যাদেশে, সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ; তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিসর ৭৫ শতাংশে উন্নীতকরণ; নিকোটিন পাউচসহ নতুন পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্তিকরণসহ যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জনস্বার্থে তা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করে বিএনটিটিপি।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবিত খসড়া থেকে কয়েকটি বিষয় বাদ দেওয়ার সমালোচনা করে তারা বলেছে, খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধকরণ এবং তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রেতাদের লাইসেন্সিং/নিবন্ধন গ্রহণ—এই দুটি পদ্ধতি তামাক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

প্রস্তাবিত সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ায় এই দুটি বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকলেও উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত অধ্যাদেশে তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। খুচরা শলাকা বিক্রির কারণে শিশু-কিশোর ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে তামাকজাত দ্রব্য সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং সরকারের এসডিজি অর্জনের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তামাক কম্পানির কর ফাঁকি, অবৈধ বাণিজ্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বিক্রি রোধে বিক্রেতা নিবন্ধন ও খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পরিপূরক আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করি।

আরো বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং তামাক ব্যবহারের কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার গৃহীত এ অধ্যাদেশ একটি শক্তিশালী ভবিষ্যতের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় বিএনটিটিপি।