আইন আদালত

ট্রাইব্যুনালে প্রথম আত্মসমর্পণ যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামির

নিউজ ডেস্ক২৮ মার্চ ২০১৭২ মিনিট পড়া

 সিল্কসটিনিউজ ডেস্ক: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার এক আসামি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রত্যাশিত বিচার শুরুর পর কোনো আসামির আত্মসমর্পণের ঘটনা এটাই প্রথম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মো. আব্দুস সাত্তার নামের ময়মনসিংহের এই ব্যক্তি আজ মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

সূত্র আরো জানায়, ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও আটকে রেখে নির্যাতনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার আট আসামির মধ্যে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সাংসদ এমএ হান্নানও রয়েছেন।

আব্দুস সাত্তারের জামিনের জন্য শুনানি করেন তার আইনজীবী মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া। অন্যদিকে এর বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা জানান, আসামিদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হান্নান, তার ছেলে মো. রফিক সাজ্জাদ, ডা. খন্দকার গোলাম ছাব্বির আহমাদ, মিজানুর রহমান মিন্টু ও মো. হরমুজ আলী আগে থেকেই কারাগারে রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সাত্তারের আত্মসমর্পণের পর এখন পলাতক আছেন মো. ফখরুজ্জামান ও খন্দকার গোলাম রব্বানী।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৯ মে ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন এ মামলা করেন। পরে ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক এজাহারটি গ্রহণ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ওই বছরের ২৮ জুলাই তদন্ত শুরু করে। পরে ১০ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

ওইদিনই হান্নানকে গুলশানে তার বাড়ি থেকে এবং ছেলে রফিক সাজ্জাদকে ওই এলাকার আরেকটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গোলাম সাব্বির, মিন্টু ও হরমুজ আলীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগের তদন্ত শেষে গত বছরের ১১ জুলাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। সূত্র: কালের কণ্ঠ