সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
টিউমার হলো শরীরের কোষের অস্বাবিক বৃদ্ধির ফল। ক্যান্সারও তাই। তাই বলে সব টিউমারই ক্যান্সার নয়, সব টিউমার ক্ষতিকরও নয়।
টিউমার সাধারণত দুধরনের হয়—বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট।

বিনাইন টিউমার সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। ক্যান্সার এবং টিউমারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।
ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার লক্ষণ
টিউমারের দ্রুত বৃদ্ধি
যদি টিউমার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আকারে অস্বাভাবিক হয়, তবে এটা ক্যান্সারের পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আকৃতির পরিবর্তন
টিউমারের আকৃতি বা রং যদি বদলাতে শুরু করে, তবে ধরে নেবেন এটা ক্যান্সারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টিউমারে গায়ে অস্বাভাবিক পিণ্ড তৈরি হওয়া ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
ব্যথা ও অস্বস্তি
যদি টিউমার অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে তা পরীক্ষা করা উচিত।
সহনীয় প্রদাহ বা রক্তপাত
টিউমারের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলাভাব, বা রক্তপাত হলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়া
অযথা ক্লান্তি অনুভব করা এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। শরীরে টিউমার থাকা অবস্থায় এসব লক্ষণ দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যেভাবে নিশ্চিত হবেন
টিউমার ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে কিনা জানার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা রয়েছে। যেমনুবায়োপ্সি, ইমেজিং টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা, জেনেটিক টেস্ট ইত্যাদি।
বায়োপসি
টিউমারের একটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে কোষগুলি ম্যালিগন্যান্ট কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
ইমেজিং টেস্ট
এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারের অবস্থান ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা যায়।
রক্ত পরীক্ষা
নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার মার্কার (যেমন চঝঅ, ঈঅ-১২৫) রক্তে উপস্থিত থাকলে তা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
জেনেটিক টেস্ট
কিছু টিউমার জেনেটিক মিউটেশন বা বংশগত কারণে ক্যান্সারে রূপ নেয়। এই টেস্ট এর মাধ্যমে ঝুঁকি নির্ধারণ করা সম্ভব।
প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুণ। টিউমারে যেকোনো কোনো অস্বাভাবিকতা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
বিনাইন টিউমার থাকলে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে ফেলা ভালো।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হলে চিকিৎসক রেডিও ও কেমোথেরাপি প্রয়োগ করতে চিকিৎসা করেন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করে ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
টিউমার দেখা দিলেই ভয় পাবেন না। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করালে অনেক ক্ষেত্রেই এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। টিউমার ক্যান্সারে রূপ নেবে কি না, তা সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শনাক্ত করা যায়। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: কালের কণ্ঠ









