বিচিত্র

ঝিলিমিলি বেলুন: শৈশবের রঙিন পুনরাবৃত্তি

নিউজ ডেস্ক১০ জানুয়ারি ২০২৫২ মিনিট পড়া

শহরের এক ব্যস্ত সন্ধ্যা। মানুষের হাঁটাচলায় ভরা রাস্তার মোড়ে ঝিলিমিলি বেলুন নিয়ে বসে আছেন এক তরুণ বিক্রেতা। তার ছোট্ট স্ট্যান্ডে সাজানো রঙিন বেলুনগুলো একের পর এক বাতাসে নরম ছোঁয়ায় দুলছে। যেন চারপাশে ছড়াচ্ছে জীবনের এক মায়াময়তা। এ প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখে সেখানে থমকে গেলেন প্রীতি চৌধুরী।

প্রীতি চৌধুরীর বয়স প্রায় বাইশের কোঠায়। পড়াশোনা করেন রাজশাহী কলেজে, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে। তার প্রতিদিনের জীবনে লেগে থাকে বইয়ের পাতা আর ক্লাসের ব্যস্ততা। শৈশবের ছোট ছোট আনন্দের কথা প্রায় ভুলেই গেছেন। ব্যস্ততার ভিড়ে ঝিলিমিলি বেলুনের রঙিন দৃশ্য যেন তাকে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। প্রতিটি বেলুনে ছিল আলাদা রঙ, আর ছিল এক অপার সরলতা। তিনি হঠাৎই অনুভব করলেন, এই রঙিন বেলুনগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর গল্প। যা এখন কেবল এক স্মৃতির পাতায় বন্দি

প্রীতি এগিয়ে গিয়ে বেলুন বিক্রেতার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেন। তার চোখে-মুখে ছিল এক ধরনের উচ্ছ্বাস। জানতে চাইলেন তার জীবনের গল্প। বিক্রেতা বললেন, “আমার দিন কাটে এই বেলুন বিক্রি করে। অনেক সময় ক্লান্ত লাগে, কিন্তু যখন দেখি ছোট ছোট বাচ্চারা বা বড়রা হাসিমুখে বেলুন কিনে, তখন মন ভরে যায়।” প্রীতি তখন বুঝলেন, এই বেলুনগুলো কেবল খেলনা নয়, এগুলো জীবনের সরল আনন্দের প্রতীক।

“এই বেলুনগুলো কত?” তার সরল প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতা হাসি দিয়ে বললেন, “ ৫০ টাকা থেকে শুরু।” প্রীতি একটি বেলুন কিনলেন তারপরে শুরু করলেন নিজেকে ফ্রেমবন্দি করতে।

বেলুন হাতে নিয়ে প্রীতি চৌধুরী যেন নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা পেলেন। তার মনে হলো, জীবনের ছোট ছোট জিনিসই অনেক সময় বড় আনন্দের উৎস হতে পারে। তিনি বললেন, “এই ঝিলিমিলি বেলুনগুলো শুধু একটা খেলনা নয়, এগুলো আমাদের মনকে রঙিন করে দেয়। আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন আর আনন্দকে মনে করিয়ে দেয়।”

প্রীতি চৌধুরী সেই বেলুনগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। তার ছোট্ট বারান্দায় বেলুনগুলো বাঁধলেন। প্রতিদিন সকালে উঠে এই রঙিন বেলুনগুলো দেখে তিনি জীবনের নতুন একটা দিক উপলব্ধি করেন। “জীবন জটিল হলেও, এর মধ্যে রঙিন আনন্দ লুকিয়ে থাকে। শুধু সেটা খুঁজে নিতে হয়।”

ঝিলিমিলি বেলুন কিনে প্রীতি চৌধুরীর যে আনন্দ, তা কেবল তার নিজের নয়। এটি আমাদের সবার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও আমরা যদি এই ছোট ছোট আনন্দগুলোকে গুরুত্ব দিই, তাহলে জীবন সত্যিই রঙিন হয়ে উঠবে।

লেখক: মোঃ আবু রায়হান, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী