নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীকে নগরীর কাদিরগঞ্জ নজমুল হক স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪০) ঈদের এক দিন আগে হঠাৎ জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হন। তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন তিনি। কিন্তু পরদিন জ্বরের মাত্রা আরো বাড়ে। শেষে ঈদের পরদিন তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন সন্ধ্যায়ই তিনি মারা যান।
শুধু শফিকুল ইসলাম নন, এভাবে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ দিনে রাজশাহীতে ২০ থেকে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী শহরেই মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে অন্তত পাঁচজনের। এদের মধ্যে মাহবুব হোসেন নামের একজন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন দিনের মাথায় মারা যান। চারঘাটের একটি মসজিদের এই ইমাম নগরীর দরিখরবোনা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। নগরীর উপশহর এলাকার আরো এক ব্যক্তি মারা গেছেন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রের মতে, জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে চিকুনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব এখনো তেমন বড় আকার ধারণ করেনি। মেডিক্যাল কলজ (রামেক) হাসপাতালে চিকুনগুনিয়ার হেল্প ডেস্ক খোলার পর পাঁচ দিনে মাত্র দুজন রোগীকে এ রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে রামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে। গত অন্তত ১৫ দিন ধরেই এসব রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন বিভগের কয়েকজন চিকিৎসক।
ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আকবর আলী নামের এক রোগী বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিন ধরে হঠাৎ জ্বর আর সর্দি দেখা দেয়। গোটা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। জ্বর আসছে, আবার যাচ্ছে। খুব ক্লান্ত করে দিয়েছে। ’
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর বাবা পবার আলতাফ হোসেন জানান, এক মাসের ব্যবধানে তাঁর ছেলে আসিফ দুইবার জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। আগের দফায় স্থানীয় চিকিৎসকদের ওষুধে জ্বরটা ছেড়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় তাতে কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বুধবার বিকেলে ভর্তি করা হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিশুটির জ্বরের কোনো পরিবর্তন নেই বলে জানান তিনি।
শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার আজগার আলী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ রাজশাহী অঞ্চলে এখনো চিকুনগুনিয়ার বিস্তার ঘটেনি। আবহাওয়াজনিত কারণেই শিশুদের রোগ-বালাই বাড়ছে। ’
রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের তথ্য মতে, এখানে মেডিসিন বিভাগে রোগীর সংখ্যা গত ১৫ দিনে বেড়েছে। গত ৯ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, শরীর ব্যথার এক হাজার ৩০৪ জন রোগী সেবা নিয়েছে।
চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলভি জানান, তাঁর বাড়ি নগরীর ঝাউতলা মোড়ে। ঢাকায় থাকা অবস্থায় তিনি এই জ্বরে আক্রান্ত হন। বাড়ি ফিরে রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নেন তিনি। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ।
রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক পার্থমনি ভট্টাচার্য্য বলেন, রাজশাহীতে চিকুনগুনিয়ার রোগী নেই বললেই চলে। তবে ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকে চিকুনগুনিয়া মনে করে আতঙ্কিত হচ্ছে।









