আন্তর্জাতিক

জোয়ার-ভাটায় সামুদ্রিক প্রাণের বিস্ময়কর জগৎ উন্মোচিত

নিউজ ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ভারতের পূর্ব উপকূলে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে তৈরি হওয়া ছোট ছোট জলাশয়ে মিলছে বিস্ময়কর সামুদ্রিক প্রাণের সন্ধান। বিচিত্র এসব প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পরিবেশবাদী সংগঠন ইস্ট কোস্ট কনজারভেশন টিম (ইসিসিটি)।

সংগঠনটি গত ছয় বছরে পাঁচ শাতাধিক সামুদ্রিক প্রজাতির সন্ধান ও নথিভুক্ত করেছে। এবার উপকূলের জীববৈচিত্র্য তুলে ধরতে সংগঠনটি আয়োজন করছে বিশেষ উপকূলীয় পদযাত্রা।

নিক্কেই এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্ব উপকূলের বিশাখাপত্তনমের তেনেতি পার্কসংলগ্ন সৈকতে ভাটার সময় পাথরের খাঁজে ও গর্তে ছোট ছোট জলাশয় তৈরি হয়। এসব জলাশয়ে দেখা মেলে সামুদ্রিক তারামাছ, কাঁকড়া, ছোট মাছ, সামুদ্রিক শামুক, স্পঞ্জ, সামুদ্রিক শৈবালসহ নানা প্রাণের।

আপাতদৃষ্টিতে প্রাণহীন মনে হওয়া পাথুরে উপকূলেই লুকিয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ এক সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।
সংগঠনটির ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি প্রিয়াঙ্কা ভেদুলা জানান, ভারতের পূর্ব উপকূলের এই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বিশাখাপত্তনমে উপকূল থেকে মাত্র চার থেকে ছয় কিলোমিটার দূরেই মহীসোপানের শেষ প্রান্ত ও মহীঢাল শুরু হয়েছে। ফলে গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী অনেক প্রাণীও উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।

গত ছয় বছরে বিশাখাপত্তনম উপকূলে ৫০০টির বেশি সামুদ্রিক প্রজাতির সন্ধান ও নথিভুক্ত করেছে ইসিসিটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাতের একটি উপকূলীয় পদযাত্রায় সামুদ্রিক স্লাগের একটি প্রজাতির ছবি তোলেন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী শ্রীচক্র প্রণব। পরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি ‘ফিডিয়ানা ইউনিলিনিয়াটা’ প্রজাতি। ১৮৬৪ সালে বিশাখাপত্তনম থেকেই প্রজাতিটির প্রথম বর্ণনা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রাণিবিদেরা। এরপর বিশ্বে আর কোথাও এর ছবি পাওয়া যায়নি।

ফলে আবিষ্কারটিকে প্রজাতিটির পুনরাবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২০ সাল থেকে ইসিসিটি ৩০০টির বেশি উপকূলীয় পদযাত্রার আয়োজন করেছে। এতে অংশ নিয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ১৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক নাগরিক বিজ্ঞান প্ল্যাটফর্ম আইন্যাচারালিস্টে যুক্ত হয়েছেন। তারা সামুদ্রিক প্রাণের ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী অঞ্চল ছোট মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়ির নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্র। পাশাপাশি শৈবাল ও অণুজীবের মাধ্যমে এসব অঞ্চল সামুদ্রিক প্রাণের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য জোগায়।

উপকূলীয় এই বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হলে বহু প্রজাতির খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্র হারিয়ে যাবে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৃহত্তর সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এসব আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার আগেই সংরক্ষণ জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।