আইন আদালত

জাহাজ বাড়ি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৭ জুন

নিউজ ডেস্ক৬ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

প্রায় এক দশক আগে ঢাকার কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ জঙ্গি আস্তনায় অভিযানের নামে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

গতকাল বুধবার প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ৭ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।

গত ২৯ জানুয়ারি এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর আর মামলার কার‌্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য চার আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ও সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পলাতক পাঁচ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হওয়ায় গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ি নামের বাড়িতে ৯ জনকে আটকে রেখে কথিত জঙ্গি অভিযানের নামে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয় বলে দাবি প্রসিকিউশনের। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়।

গত বছর ২৪ মার্চ এ মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে, ৯ জন তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু আগে গ্রেপ্তার করে জাহাজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার আগে তাদের কেউ কেউ দুই-তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতে ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে ‘ব্লক রেইড’র কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই হাজির হন। গুলি করে হত্যার পর জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা প্রচার করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, সে সময় জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।