অর্থ ও বাণিজ্য

‘জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন কর ব্যাপক বৃদ্ধি’

নিউজ ডেস্ক৬ জুলাই ২০২৩৬ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

“জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন কর ব্যাপক বৃদ্ধি”- দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার একটি খবর। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের সব এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে।

দেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরে দ্বিগুণ কর গুনতে হবে। তবে নিবন্ধন কর হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হবে রাজধানীর গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মতিঝিল সম্প্রসারিত এলাকা এবং মহাখালী এলাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিকদের।

এসব এলাকায় সম্পত্তি কিনলে ক্রেতাকে জমি, ফ্ল্যাট বা যেকোনো স্থাপনা নিবন্ধনের জন্য কাঠাপ্রতি ৮ শতাংশ বা ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ, তা দিতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় উৎস কর বিধিমালায় নতুন ওই কর নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ২৬ জুন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ৩ জুলাই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

সরকারি কর্মচারিদের ৫% প্রণোদনা দেয়া নিয়ে কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোনাম করেছে – “৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ছে”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এতে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পর্যন্ত ৪০০ থেকে প্রায় চার হাজার টাকা বেতন বাড়বে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির তুলনায় বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক কম। এতে মূল্যস্ফীতি না কমে বরং বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৪ শতাংশ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রণোদনার ফলে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির বেতন বাড়বে ৪১২ থেকে ৫৫০ টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির বাড়বে ৫৬৫ থেকে ৮০০ টাকা। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে ১১০০ থেকে ৩৯০০ টাকা। এই ভাতা শুধু চলতি বছর বাড়বে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মানবজমিনের প্রথম পাতায় পাশাপাশি দুটি শিরোনাম, “ঢাকায় কর্মসূচি নিয়ে তৎপর হচ্ছে আওয়ামী লীগ” এবং “সিরিজ বৈঠক, এক দফার প্রস্তুতি বিরোধীদের”।

দুটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন সামাল দিতে এবার রাজধানী ঢাকায় তৎপর হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি জুলাই মাস থেকেই এই তৎপরতা শুরু করবে দলটি।

দলটির প্রায় প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢাকায় সমাবেশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চলতি জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদেরকে সমাবেশ আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, এক দফার আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ লক্ষ্যে চলছে সিরিজ বৈঠক। লক্ষ্য ও কর্মসূচি ঠিক করতে আলোচনা করছেন নেতারা।

রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র সঙ্গে সমন্বয় করে যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে আছে তারা এক দফার আন্দোলনে যাবে।

এসব দল ও জোটের সঙ্গে বিএনপি সিরিজ বৈঠক করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বৈঠক শেষ করে এক দফা আন্দোলনের বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে। দলগুলোর মধ্যে থাকা মতবিভেদ দূর করে চলতি মাসেই সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা করতে চায় বিরোধী দলগুলো।

নির্বাচনকে ঘিরে যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, “নির্বাচনকে ঘিরে উৎকণ্ঠা”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অস্থির দেশের রাজনীতি। বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি।

নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে অনড় অবস্থানে দুদল। সংকট নিরসনে আপাতত সংলাপ বা সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমন পরিস্থিতিতেও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে-আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ।

কিন্তু দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে কীভাবে সেটা সম্ভব-এমন প্রশ্নই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রাজনৈতিক সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় জনমনে বাড়ছে নানা উৎকণ্ঠা।

পোস্ট অফিস নিয়ে ভিন্ন ধরণের শিরোনাম ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের, “Digital debacle” যার অর্থ “ডিজিটাল বিপর্যয়”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ পোস্ট অফিসগুলোকে ডিজিটালাইজ করার জন্য সরকারের পদক্ষেপ বিফলে গিয়েছে, সিএজি অডিটে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

২০১২ সালে, সরকার গ্রামীণ এলাকায় ৮,৫০০টি পোস্ট অফিসকে ই-সেন্টারে রূপান্তর করার জন্য ৫৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।

কিন্তু প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার ছয় বছর পর, সেটি তার লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছ বলে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ইন্টারনেট, ই-গভর্ন্যান্স, ই-কমার্স, ই-শিক্ষা, ই-কৃষি, দ্রুত রেমিট্যান্স এবং ভাতা বিতরণসহ বিভিন্ন সেবা দেয়া।

বাস্তবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ ধরণের সেবা দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ফটোকপি এবং প্রিন্ট করা হয়।

সিএজি রিপোর্টে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে নানা ধরণের সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল শুধুমাত্র প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার জন্য। সামগ্রিক বিশ্লেষণ দেখায় যে এতে শুধুমাত্র সরকাই তহবিল নষ্ট করা হয়েছে।

ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, “নির্বাচনি বছরে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিদায়ি অর্থবছর জুড়ে মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ আর ডলার-সংকট ছিল দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

নতুন অর্থবছরও শুরু হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতির তথ্য দিয়েই।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনি বছর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে আসবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো কঠিন হবে।

আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে। তাই চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হবে সরকারের জন্য।

নিউ এইজের শিরোনাম, “FDI up in 2022 but overall stock falls” যার অর্থ বৈদেশিক বাণিজ্যে বিনিয়োগ বাড়লেও সামগ্রিক স্টক কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২২ সালে দেশে এফডিআই প্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৩.৪৮ বিলিয়ন হয়েছে, তবে এর সামগ্রিক স্টক প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশটি আগের এফডিআই ধরে রাখতে পারেনি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, পুরনো বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বা তাদের মুনাফা ফেরত দিচ্ছেন।

জ্বালানি খাত নিয়ে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, “বাপেক্সকে দুর্বল রেখে বিদেশি কোম্পানির দিকে ঝোঁক”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড- বাপেক্স-এর গড় সাফল্য বেশি।

যদিও দেশে বাপেক্সের সক্ষমতা নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিতর্ক চলছে। কিন্তু কোন সরকারই রাষ্ট্রায়ত্ব এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর উপর তেমন নজর দেয়নি। অনুসন্ধানের জন্য রিগ (খননযন্ত্র) ও জনবল বাড়ানো হচ্ছে না।

সরকারের কোন অর্থায়ন নেই বরং বা বাপেক্সকে দুর্বল করে রেখে বিদেশে কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানের ঝোঁক বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জোর না দিয়ে আমদানির দিকে ছুটছে সরকার। বাপেক্সের এই সীমাবদ্ধতার কারণেই বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ডলার খরচ করে দেশে আনতে হয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

গ্যাস নিয়ে বণিক বার্তার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের শিরোনাম, “ভুল নীতি ও উদ্যোগের অভাবে পেট্রোবাংলা এখন তলাবিহীন পাত্র”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে স্থানীয় সরবরাহ বৃদ্ধির পরিবর্তে আমদানিনির্ভর ভুল জ্বালানি নীতি গ্রহণের কারণে আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছে পেট্রোবাংলা। অসম্ভব হয়ে পড়েছে সরকারের ভর্তুকি বা ঋণ ছাড়া সংস্থাটির পক্ষে কার্যক্রম চালানো।

একপ্রকার অর্থশূন্য অবস্থায় যাত্রা করেও স্বাধীনতার পর বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে সাড়ে ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে দেশের পাঁচ গ্যাসক্ষেত্র কিনে নিয়ে আর্থিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থান ছিল শক্ত ও মজবুত। কিন্তু এলএনজি আমদানিতে নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় গ্যাস খাত উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগহীনতার কারণে পেট্রোবাংলা এখন আর্থিকভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হয়েছে।

ট্যাগ: