সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চলতি বছরের মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকাই ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছে। অর্থাৎ ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ সৃষ্টি করেছে চামড়া খাতের প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ খেলাপি হিসাবে দেখানোর সুপারিশ করেছে। তার ভিত্তিতে গ্রুপটির ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি দেখানো হয়েছে। একটি গ্রুপের বিপর্যয় পুরো ব্যাংকটিকেই বিপদে ফেলে দিয়েছে।

যদিও ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের বলছেন, প্রক্রিয়াগত কিছু ত্রুটির কারণে রফতানি পণ্যের সব বিল এখনো দেশে আসেনি। তবে ধারাবাহিকভাবেই টাকা আসছে। চলতি বছরের মধ্যে সব রফতানি বিল দেশে আসবে বলে আশা করছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে জনতা ব্যাংক। বিতরণকৃত এ ঋণের ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ খেলাপি। যদিও ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।
ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণের কারণেই জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মার্চ প্রান্তিকে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের মধ্যে ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ছিল ক্রিসেন্ট গ্রুপের। তবে মার্চে ৯ হাজার ৭০২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি থাকলেও এখন তা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ নিয়ে আমরা সজাগ আছি। প্রতিনিয়তই আমরা গ্রুপটির সঙ্গে বৈঠক করছি। বৃহস্পতিবারও গ্রুপটির সঙ্গে সামগ্রিক বিষয়ে বসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের রফতানি বিলগুলো নিয়ে আমরা এরই মধ্যে পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু রফতানি বিলের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। গ্রুপটিকে দেয়া পুরো ঋণ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে এখনো আমরা আশাবাদী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্ট, রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যারস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, রিমেক্স ফুটওয়্যার এবং লেক্সকো লিমিটেড নামের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে চীন, ইতালি, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে রফতানি দেখানো হয়। এসব রফতানির বিপরীতে সৃষ্ট ফরেন ডকুমেন্টারি বিল ক্রয় (এফডিবিপি) করে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ক্রিসেন্ট গ্রুপের রফতানি বিল কেনা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে এফডিবিপির বিপরীতে ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা দেয়ার তথ্য উঠে আসে।
নিয়মানুযায়ী, রফতানির ১২০ দিনের মধ্যে এসব বিলের অর্থ ফেরত আনার নিয়ম থাকলেও ক্রিসেন্টের ক্ষেত্রে তা আসেনি। গত বছরের এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে রফতানির অর্থ না এলেও বিল কেনা বন্ধ করেনি ব্যাংকটি। এভাবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৭০টি বিল কিনেছে জনতা ব্যাংক। এ তথ্য উদ্ঘাটনের পর নতুন করে কোনো বিল না কেনার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে পুরনো দায় সমন্বয়ের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। তার পরও গ্রুপটির রফতানি বিল কিনেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। জনতা ব্যাংকের কেনা রফতানি বিলের পুরো অর্থ এখনো দেশে আসেনি।
রফতানি বিল ফেরত পাওয়ার বিষয়ে এখনো পুরোপুরি আশাবাদী ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের। তিনি বলেন, আমাদের রফতানি বিলগুলো ধীরে ধীরে ফেরত আসছে। ফলে ব্যাংকের ঋণও কমছে। পুরনো বিলের পাশাপাশি নতুন করে রফতানি করা পণ্যের বিল আসছে। ফলে ঋণের পরিমাণ না বেড়ে প্রতিনিয়ত কমছে। রফতানির সব বিল ফেরত আসার জন্য আমাদের কিছু সময় দিতে হবে। আশা করছি, এ বছর শেষে সব রফতানি বিলই ফেরত আসবে।









