জাতীয়

ছেলের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে শিক্ষা অফিসে ক্ষোভ, ফেসবুকে দা নিয়ে হুমকি

নিউজ ডেস্ক১৮ জুন ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার মদনে ছেলের উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে শিক্ষা অফিসে এসে ক্ষোভ প্রকাশের পর ফেসবুকে দেশীয় অস্ত্র (দা) হাতে শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার মাঘান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তারকে এ হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) দা হাতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে হুমকি দেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইমান শেখের বাবা আমিনুল ইসলাম।

জানা গেছে, আইমান শেখ মাঘান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সে জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

গত ১৫ জুন উপবৃত্তির বিষয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে আমিনুল ইসলাম জানতে পারেন, তার ছেলের উপবৃত্তির টাকা নিয়মিতভাবে অন্য একটি অজানা মোবাইল নম্বরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং পরদিন (১৬ জুন) বিচার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যান।

অফিসে কাউকে না পেয়ে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, মাঘান স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি তিনি উপবৃত্তির টাকা কোথায় গেছে তা বের করবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে ১৭ জুন তিনি আবারও দেশীয় অস্ত্র (দা) হাতে নিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

তবে জানা গেছে, উপবৃত্তির টাকা যে মোবাইল নম্বরে গেছে, সেটি ফরিদপুর জেলার একটি নম্বর।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো উপবৃত্তির টাকা পায়নি। গত সপ্তাহে বিষয়টি জানতে পারি- উপবৃত্তির টাকা অন্য একটি মোবাইল নম্বরে যাচ্ছে। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেননি। এ কারণে আমি ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেছি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার বলেন, আইমানের উপবৃত্তির টাকা অন্য একটি মোবাইল নম্বরে গেছে। বিষয়টি আমি তাকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষা অফিসে যান এবং পরে ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে তার আত্মীয়স্বজন আমার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তারপরও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলব।

মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।