চোখ বন্ধ সদর দফতরের, বহাল তবিয়তে ‘মাতাল ওসি’

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর এক অভিজাত আবাসিক হোটেলে ঢুকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া।  এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

১০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে সদর দফতরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।

কিন্তু গত পাঁচ মাসেও ‍একজন পরিদর্শককে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়ার জন্য যে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, সেই পথে এগোয়নি পুলিশ সদর দফতর।  প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক মাইনুলকে শুধু সিএমপি থেকে সরিয়ে এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয় শাখা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার অভিযোগ আসে, তদন্ত রিপোর্ট আসে।  দাফতরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটু সময় লাগে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ-উল-হাসান  বলেন, সিএমপির দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে আইজিপি স্যারের কাছে শাস্তির সুপারিশ করা।  সেই দায়িত্ব আমাদের কমিশনার স্যার পালন করেছেন।  যেহেতু মাইনুল ইসলাম এখন আমাদের ইউনিটের কেউ নন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি হয়েছে কি হয়নি, সেটা দেখার দায়িত্বও আমাদের নয়।

চলতি বছরের ৩ জুলাই গভীর রাতে নগরীর আগ্রাবাদে অভিজাত আবাসিক হোটেল সেন্টমার্টিনে ঢুকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া।  তিনি ওই হোটেলের চারজন কর্মী এবং ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সৈয়দ আলমকে মারধর করেন। এসময় তিনি মাতাল ‍অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার সত্যতা আসে তদন্ত প্রতিবেদনে।

ঘটনা তদন্তে সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।  ওই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে ১৬ জুলাই আইজিপি বরাবর শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন পাঠান সিএমপি কমিশনার।

সূত্রমতে, নগরীর সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকার সময় ছাত্রলীগ নেতা ও

তার স্ত্রীকে ভিত্তিহীন অভিযোগে আটকের পর মারধর করায় মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সংযুক্ত থাকা অবস্থায় হোটেলে ঢুকে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।

হোটেলের ঘটনায় সিএমপি কমিশনার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পর পরিদর্শক মাইনুলকে সংযুক্ত অবস্থায়ই টাঙ্গাইলের মহেরায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়। তবে মাইনুল সেখানে যোগ দেননি। এরপর সম্প্রতি তাকে চট্টগ্রামে এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো এপিবিএন-এ যোগ দেননি।

জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমি খুবই অসুস্থ। সেজন্য পোস্টিং হলেও এপিবিএন-এ জয়েন করিনি।

সূত্রমতে, পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হলে আইজিপি কিংবা অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিতে পারেন।

এই বিধান অনুযায়ী সিএমপি কমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইজিপির নির্দেশে একজন অতিরিক্ত আইজিপি অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা। নোটিশে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার জবাব উপস্থাপন করবেন। জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি সন্তুষ্ট হলে বিষয়টি নথিভুক্ত থাকবে। আর সন্তুষ্ট না হলে বিভাগীয় মামলা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির চেয়ে সিনিয়র একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর লঘু অথবা গুরু দণ্ড দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি মহোদয় বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।

তবে পরিদর্শক মাইনুলের বিরুদ্ধে গত পাঁচ মাসে এই পদক্ষেপের একটিও নেওয়া হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, হেডকোয়ার্টার থেকে আমাকে ডাকেনি। এটা নিয়ে এখনো কিছু হয়নি।

হোটেলে ঢুকে পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক মাইনুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। এরপর পুলিশ সদর দফতরের ‘ধীরে চলো নীতিতে’ ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা বিভাগীয় শাস্তিও এড়াতে পারছেন বলে মনে করছেন সিএমপিতে তার সহকর্মীদের অনেকেই।

বাংলানিউজক