সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় চীন ও ভারতের সঙ্গে সমানতালে কাজ করবে বাংলাদেশ।

আজ শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘সাকসেসফুল (সফল) আপনার ইভেন্ট যেটা হইছে আমরা মনে করি। এখানে এখন আমরা কী পাইলাম, কী পাইলাম না, এটা ধরাধরি করতে পারবেন বা খোঁচাখুঁচি করতে পারেন। কত টাকা দিল, কত ডাইল দিল, কত চাইল দিল, এটা ব্যাপার না।’
‘ব্যাপারটা হলো আপনার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ)। চায়না আমাদের সঙ্গে আছে, দ্যাট ইজ সেলফ ইজ অ্যা ইভেন্ট (এটা সবচেয়ে বড় ঘটনা)।’
ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘সবচেয়ে ইম্পোরট্যান্ট (গুরুত্বপূর্ণ) হলো, আমাদের এই অঞ্চলে আপনার শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা। এইটা আমাদের প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার)। সুতরাং আমরা একদিকে যেমন আপনার চায়নার সঙ্গে কাজ করতেছি, সঙ্গে সঙ্গে আবার ইন্ডিয়ার সঙ্গেও কাজ করতেছি।’
‘আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। একা কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
দুদিনের সফর শেষে শনিবার সকাল ১০টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখানে গাছের চারা রোপণ ও পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
দুদিনের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা আসেন শুক্রবার সকালে। তাঁর এই সফরে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল, প্রতিটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট করে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জাতীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ। এ ছাড়া সন্ত্রাস দমন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, সমুদ্রসীমাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা হয়।
১৯৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক চুক্তি বিনিময় হয়। এর বাইরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বাংলাদেশে চীনের ১৩ টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি হয়। আর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার আহ্বান জানান।
জিনপিংয়ের এই সফর আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছে সরকার। দুদিনের সফর হলেও মোট সাড়ে ২২ ঘণ্টা অবস্থান শেষে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
সূত্র: এনটিভি









