সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিদেশ সফর যেন প্রকল্পের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট একটি প্রকল্পে ৫৩ জনের বিদেশ সফরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ১৫ কোটি টাকা ধরা হলেও এই সফরের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২ কোটি টাকা।
‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-ব্রিজিং’ প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে ঘটেছে এমন ঘটনা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের দেয়া প্রকল্প প্রস্তাবটি নিয়ে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে অ্যাপ্রেইজাল সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বৃহস্পতিবার বলেন, বিদেশ সফরের বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তবে এত কম টাকার প্রকল্পে বিদেশ সফরের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবের বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশন থেকে খতিয়ে দেখা হবে।
এতজনের স্টাডি ট্যুরের প্রয়োজন আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস যুগান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে অ্যাপ্রেইজাল সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সামনে বিস্তরিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, এখনও যেহেতু প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা পর্যন্ত আসেনি। তাই যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এ কথা ঠিক যে, আমাদের অফুরন্ত সম্পদ নেই। এজন্য বিদেশ সফরের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আনতে হবে। প্রকল্পে বিদেশ সফর থাকতেই হবে তেমনটি নয়। প্রকৃত প্রয়োজন হলে বিদেশ সফরের বিষয়টি থাকতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যারা প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন করেন তাদেরও এই সফরগুলোতে যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়। তারাও যদি ভাগ বসান তাহলে সঠিক মূল্যায়ন হবে না। এক্ষেত্রে এসব বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যিকার মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ইদানীং সব প্রকল্পেই যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিদেশ সফরে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চরের দরিদ্র মানুষের জন্য প্রকল্পটি হাতে নিয়ে যদি ২ কোটি টাকা স্টাডি ট্যুরে ব্যয় হয়, তাহলে গরিব মানুষরা কী পাবে? তাছাড়া কর্মকর্তারা স্টাডি ট্যুরে গিয়ে কী পাবে সেটার ব্যাখাও থাকা প্রয়োজন। এই স্টাডি ট্যুরের সঙ্গে প্রকল্পের সম্পর্ক যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রকল্পে এ ধরনের অপচয়
বন্ধ করা উচিত। তাছাড়া পরিকল্পনা কমিশন যদি মূল্যায়নের সময় তাদের স্টাডি ট্যুরে অন্তর্ভুক্ত করতে বলে এটা তো এক ধরনের ভাগাভাগি হয়ে যায়। এটা প্লানিং কমিশনের কাজ নয়। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা ইফাদের অনুদান থেকে ৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য- নতুন উপকূলীয় চরাঞ্চলে বসবাসরত জনগণের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাস করা।
উপকূলীয় চরাঞ্চলের ৬ হাজার ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া এবং উপকূলীয় অধিবাসীদের নিরাপদ বসতি স্থাপন ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় তা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেতৃত্বে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
অ্যাপ্রেইজাল সভার কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৫৩ জনের বৈদেশিক স্টাডি ট্যুর বাবদ ২ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের ১ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা ১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ছোট এবং বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে বিধায় বৈদেশিক স্টাডি ট্যুর বাবদ বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ১ কোটি টাকার সংস্থান রাখা যেতে পারে।









