সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামে পণ্যের দাম বাড়তে পারে
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগছা ইউনিয়নের আমিন বাজারের (কেতার মোড়) চা বিস্কুট বিক্রি করেন মো. আবদুল হাকিম। কয়েকদিন আগেও দিন শেষে তার বেচাকেনা ছিল দেড় হাজার টাকা।

নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করায় এখন তার দোকানে লোকসমাগমও বেড়েছে, বেড়েছে বিক্রিও। এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। সেইসঙ্গে আগের তুলনায় রাতে বেশি সময় ধরে দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে।
তিনি আশা করছেন ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ততই বাড়ছে। একই তথ্য জানান ওই এলাকার অপর চা বিক্রেতা নুর ইসলামও। অন্যদিক কুড়িগ্রাম সদরের ভরসার মোড়ের মোছা. আনজু বেগম এবং শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের দোকানেও বিক্রি বেড়েছে।
শুধু খাবার দোকানই নয়, ডেকোরেটর, ভারাটে মাইক, কাপড়ের দোকান, উপহার সামগ্রীর দোকান থেকে শুরু করে সব ধরনের গ্রামীণ ব্যবসার পালে হাওয়া লেগেছে। কেননা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের গ্রামে বেড়ে গেছে অর্থ প্রবাহ। সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের পক্ষের লোকজনও খরচ করা শুরু করেছেন হাত খুলে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনী মাসগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই গ্রামে অর্থ প্রবাহ ব্যাপক বেড়ে যায়। এতে দুই ধরনের প্রভাব পড়ে। একদিকে গ্রামীণ ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করে।
নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মানুষের হাতে টাকা থাকে। প্রার্থী-সমর্থক এবং ভোটার সবার মধ্যেই উৎসব ভাব চলে আসে। এতে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে এর কারণে গ্রামে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়।
কেননা এ সময়টাতে চাহিদা বাড়ে এবং টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়তে পারে, অর্থাৎ গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, খুবই সাময়িক সময়ের জন্য।
কুড়িগ্রামের বেলগছা ইউনিয়নের কালিরহাটে অবস্থিত বাবউল্লাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা মো. নিজাম উদ্দিন জানান, নির্বাচনের এ সময়ে গ্রামে মানুষের যাতায়াত এবং চলাফেরা অনেক বেড়ে গেছে। এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামে যাচ্ছেন।
নির্বাচন ঘিরে নানা কর্মকাণ্ড চলছে। ফলে গ্রামীণ হাটবাজারগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে এক ধরনের উৎসব ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য বলছে, গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যেই কিছুটা বেড়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামে ২৫৫ টাকা ৮৬ পয়সায় যে খাদ্য পণ্য পাওয়া যেত, এখন তা পেতে খরচ করতে হয় ২৫৭ টাকা ৪৩ পয়সা। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর মাসে ২২৭ টাকা ৫৮ পয়সা খরচ করে যে পণ্য পাওয়া যেত একই পণ্য অক্টোবরে পেতে খরচ করতে হয়েছে ২২৮ টাকা ৮৮ পয়সা।
এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে গ্রামে খাদ্য, পানীয় এবং বিড়ি-সিগারেটের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এসব খাতে ব্যয়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ২৭৩ টাকা ৬৩ পয়সা খরচ করে যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যেত একই পণ্য এখন পেতে খরচ করতে হচ্ছে ২৭৫ টাকা ৩৭ পয়সা।
গ্রামের ভোটারদের তুষ্ট করতে সরকার ইতিমধ্যে গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতের ৬২ শতাংশ অর্থ গ্রামে ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামের সড়ক, সেতু, স্কুল, কলেজ এসব নির্মাণ কাজেও অর্থ ব্যয় বেড়েছে।









