জাতীয়

গাবতলীর ঘটনায় ছাড় দেবে না পুলিশ

নিউজ ডেস্ক৪ মার্চ ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পরিবহন ধর্মঘটের সময় পুলিশ বক্স ও রেকারে আগুন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে দারুসসালাম থানায়। এরমধ্যে চারটি মামলারই বাদী পুলিশ। একটি মামলার বাদী হয়েছেন আহত জনৈক কিশোর সুজনের মা মোসাম্মৎ ফেরদৌসী। পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলোতে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৮শ থেকে ১৩শ অজ্ঞাত শ্রমিককে আসামি করা হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে।

 

এজাহারভুক্ত শ্রমিক নেতারা ছাড়াও অনেক পরিবহন শ্রমিক এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও এ ধর্মঘটকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। এরপরই এসব মামলা হতে থাকে। পুলিশ বলছে,এসব ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

শ্রমিক নেতারা মনে করেন, গাবতলীর ঘটনায় হত্যা, পুলিশের  কাজে বাধা প্রদান, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর কারণে শ্রমিক ও নেতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাছাড়া এসব মামলার কারণে আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এতে শ্রমিক ও নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে । আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে এখনই সমাধান করা না হলে, আবারও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তারা।

 

শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও আতঙ্কে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবে বলেছে, সেটা তারা করতেই পারে। কিন্তু অন্যদের তারা বাধা দিতে পারে না। মঙ্গলবার রাতে গাবতলীতে পুলিশ বক্স ও রেকারে আগুন দেওয়ার ঘটনাও দুঃখজনক। এটা তারা করতে পারেন না। সেই দায়ও মালিকপক্ষ কিংবা আমরা নেবো না। তাই পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারে।’

 

মশিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, ‘মামলার আসামিরা যেহেতু আমাদের শ্রমিক। তারা যদি মালিকপক্ষের সহযোগিতা কিংবা পরামর্শ চান, তখন আমরা পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা ঘটনার বিষয়টি শ্রমিক ফেডারেশন ও শাজাহান খান দেখবেন ও বুঝবেন।’ কোনও কিছুতে না থেকেও এমনিতে তার ইমেজ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা জানান, পুলিশ বক্স ও রেকার পোড়ানো ছাড়াও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় দারুসসালাম থানায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলার বাদী হয়েছেন আহত  কিশোর জনৈক সুজনের মা মোসাম্মৎ ফেরদৌসী। এ মামলায় অজ্ঞাত এক হাজার শ্রমিককে আসামি করা হয়। অপর চারটি মামলার বাদী হয়েছেন দারুসসালাম থানার এসআই বিশ্বজিৎ পাল, মাসুদ মিয়া, এলিট মাহমুদ ও এসআই মো.যোবায়ের।

 

এ চারটি মামলায় ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে আটশ’ থেকে এক হাজার তিনশ’ অজ্ঞাতনামা শ্রমিককে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এরইমধ্যে সাত শ্রমিককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলামকে এসব মামলার এক নম্বর আসামি ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেমকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্যরাও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাছাড়া বেশিরভাগই সাধারণ শ্রমিক।

শুক্রবার কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দাবি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা আন্দোলন করেছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে পুলিশ বক্স ও রেকারে আগুন দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। তাছাড়া যাদের আহ্বানে তারা ধর্মঘট করেছেন, তাদের কাউকে মামলার আসামি করা হয়নি। এটা খুবই রহস্যজনক।

 

বাংলাদেশ যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনের নামে কুচক্রীদের ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক হাজারের বেশি শ্রমিককে আসামি করে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এখন শ্রমিকরা গ্রেফতার আতঙ্কে ঠিকমতো কাজও করতে পারছেন না। শ্রমিক নেতারা পালিয়ে থাকায় বুধবার দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও সেটা পুরোপুরি কার্যকর করতে রাত হয়ে যায়।’

 

তিনি বলেন, ‘পাঁচ মামলায় হাজারের বেশি অজ্ঞাত আসামি।  পুলিশ কাকে কখন ধরবে এখন সেই আতঙ্কে আছেন শ্রমিকরা। উপরন্তু, সরকার ও শ্রমিক নেতাদের প্রতিও তাদের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। এখনই আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি সমাধানে না আসলে আবারও যেকোনও সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

 

গাবতলীর ঘটনায় দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলাটির বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. যোবায়ের জানান, তারা কাউকে হয়রানি করবেন না। তবে কোনও নাশকতাকারী ও তাদের মদদদাতাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন,‘ইন্ধনদাতা ও হুকুমদাতাদের নাম এজাহারে না থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে অবশ্যই শ্রমিকদের দিয়ে এসব কারা ঘটিয়েছে, সেটা বের হয়ে আসবে। তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়ার সময় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন