লাইফ স্টাইল

গর্ভকালীন কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি

নিউজ ডেস্ক১১ মার্চ ২০২০৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চার নারীর তিন জন গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। এ সমস্যা সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে, বিশেষ করে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে বেশি দেখা যায়। মায়ের জরায়ুর যে পাশে বাচ্চা অবস্থান করে, সেদিকে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের ব্যথা কারও কারও জন্য তেমন সমস্যার কারণ না হলেও কারও জন্য এটা মারাত্মক হয়ে ওঠে। গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আজকের স্বাস্থ্য পরামর্শ।

কোমর ব্যথার কারণ : গর্ভধারণের শুরু থেকে শরীরের কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রজেস্টেরন ও রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট ও লিগামেন্ট নরম এবং ঢিলা করে দেয়। ফলে মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। জয়েন্টের ভার বহন ক্ষমতা কমে যায়। হাঁটার সময়, বসে থাকলে, নিচে চেয়ার থেকে ওঠার সময় বা কোনো কিছু তোলার সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভরকেন্দ্রও পরিবর্তিত হয়। এতে পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। যেহেতু মায়ের শরীর এ সময় অতিরিক্ত ওজন বহন করে, তাই শরীরের পেশি ও জয়েন্টের ওপর চাপ বেশি থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতীরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন, তখন রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইনে শারীরিক ধকল গেলে চাপা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হওয়ার আরেকটি কারণ সায়াটিক নার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ। এ সময় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ুর চাপ যখন শরীরের দুটি সায়াটিক নার্ভের ওপর পড়ে, তখন কোমর, নিতম্ব বা ঊরুতে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা কখনো কখনো পায়ের দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। গর্ভাবস্থায় সায়াটিকার হওয়া স্বাভাবিক। তবু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

করণীয় : গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও মা ও সন্তানের জন্য বিরক্তিকর। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা দূর করতে ব্যায়াম উপকারী। এতে নিজের পেশি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শরীরের সর্বস্তরের সুস্থতা শিশুকে বহন করার শক্তি জোগায়। তখন ওজন বৃদ্ধির পরও খুব সহজে ও আরামে শিশুকে বহন করা যায়।

গর্ভবতীর শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম হলো হাঁটা, সাঁতার কাটা ও ধীরে সাইকেল চালনা। গর্ভাবস্থায় স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে স্বস্তি মিলতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যায়াম যেন দ্রুত করা না হয় বা স্ট্রেচিং বেশি করা না হয়। যখনই মনে হবে অসুবিধা বা ব্যথা হচ্ছে, তখনই ব্যায়াম বন্ধ করুন। ব্যথার স্থানে গরম ও ঠান্ডা সেঁক দিলে আরাম পাবেন।