সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
খেলাপি গণছাড়ে আগ্রহ দেখায়নি কোনো পক্ষ। ডাউনপেমেন্টের পরিমাণ অনেক কম হওয়ায় বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো এ সুবিধা দিচ্ছে না। সরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাপকহারে উদ্যোগ নিলেও ঋণখেলাপিরা এগিয়ে আসেনি। সব মিলিয়ে গত বছর এই গণছাড়ের আওতায় ১৪ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর আয় হয়েছে মাত্র ৪৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের ৭ হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমাতে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয় খেলাপিদের। এককালীন এক্সিট সুবিধাও দেওয়া হয়। গত বছরের ৫ মে এ সার্কুলার জারি করা হয়। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।

এ দিকে গণছাড়ের সুবিধার পরিমাণ জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর পুনঃতফসিল সুবিধা নিতে ৮ হাজার ৫৪৬ জন ঋণখেলাপি ব্যাংকগুলোর কাছে আবেদন করে।
এককালীন সুবিধার জন্য আবেদন করেন ৪ হাজার ৮২২ জন। সর্বমোট ১৩ হাজার ৩৩৮ জন খেলাপি বিভিন্ন ব্যাংকের আবেদন করেন। অথচ দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। আবেদনকারী ঋণখেলাপিদের কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা ২৩ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। অবলোপনসহ হিসাব করলে তা দেড়লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
আবেদনকারী খেলাপিদের মধ্যে ৬ হাজার ৬৩২ জন সুবিধা পেয়েছেন। এর মধ্যে পুনঃতফসিল সুবিধা নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৮১ এবং এককালীন এক্সিট সুবিধা নিয়েছেন ২ হাজার ৭৫১ জন। এই ঋণখেলাপিদের ৭ হাজার ৯৮ কোটি টাকা সুদ মাফ করেছে ব্যাংকগুলো। ডাউনপেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে আয় হয়েছে মাত্র ৪৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে এ সুবিধা নেওয়ার ফলে ১৪ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত হয়েছে ব্যাংকগুলোর।
গণছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলো। মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেক রয়েছে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয়। এ খাতের ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঋণখেলাপিদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। কিন্তু অধিকাংশ খেলাপি আগ্রহ দেখাননি।
ডাউনপেমেন্ট অনেক কম এবং সুদহার কম হওয়ায় বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো এতে আগ্রহ দেখায়নি। অনেক গ্রাহক যোগাযোগ করলে তারা আবেদনই গ্রহণ করেননি। আবেদন গ্রহণ না করায় ৭০০ গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, খেলাপিদের কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে তা নির্ভর করবে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ওপর। কোনো ব্যাংক চাইলে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট নিয়ে পুনঃতফসিল করবে কোনো ব্যাংক চাইলে আরও বেশি ডাউনপেমেন্ট নেবে। এটি ব্যাংকের ব্যবসার ওপর নির্ভর করবে।









