ধর্ম

কোরআন সত্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে

নিউজ ডেস্ক২২ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اٰلِهَۃً ؕ قُلۡ هَاتُوۡا بُرۡهَانَكُمۡ ۚ هٰذَا ذِكۡرُ مَنۡ مَّعِیَ وَ ذِكۡرُ مَنۡ قَبۡلِیۡ ؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ الۡحَقَّ فَهُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ

সরল অনুবাদ
তারা কি তাঁকে ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? বল, ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস। আমার সাথে যারা আছে এটি তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিল তাদের জন্যও এটাই ছিল উপদেশ। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই প্রকৃত সত্যকে জানে না, তাই তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৪)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
প্রথম উপদেশ বলে পবিত্র কোরআন এবং দ্বিতীয় উপদেশ বলে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহকে বুঝানো হয়েছে।

এর অর্থ হলো, পবিত্র কোরআনে এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে শুধু মাত্র একই উপাস্যের কথাই আছে। কিন্তু মুশরিকরা এ সত্যকে মানতে প্রস্তুত না। তাই তারা একগুঁয়েমিবশতঃ একেশ্বরবাদ অস্বিকার করে বহু ইশ্বরবাদ সাব্যস্ত করতে চায়। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
আজ পর্যন্ত যতগুলো কিতাবই আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ার কোন দেশে কোন জাতির নবী-রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে থেকে যে কোন একটি খুললেই দেখা যাবে যে, পৃথিবী ও আকাশের স্রষ্টা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ প্রভুত্বের কর্তৃত্বে সামান্যতম অংশীদার নয়।

এমনকি তাওরাত ও ইঞ্জলে পরিবর্তন সাধিত হওয়া স্বত্বেও এ পর্যন্ত কোথাও পরিষ্কার উল্লেখ নেই যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে দ্বিতীয় উপাস্য গ্রহন করা যাবে। বরং প্রত্যেক নবী-রাসুলের দাওয়াত ছিলো যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। যেমন- পরবর্তী আয়াতেই আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার পূর্বে আমরা যে রাসুলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহিই পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ‘ইবাদত কর।’ সুতরাং যত নবীই আল্লাহ পাঠিয়েছেন সবই একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত দিতেন।

আর এর সুস্পষ্ট আরেকটি প্রমাণ হলো, মুশরিকরা আজও তাদের দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। (ইবন কাসির, ফাতহুল কাদির, তাফসিরে জাকারিয়া)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

২. আল্লাহ সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন—যদি কেউ অন্য ইলাহ মানে, তবে তার পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।

৩. সকল নবী-রাসুলের মূল দাওয়াত ছিল একটাই-এক আল্লাহর ইবাদত কর, এটি তাওহিদের সর্বজনীন বার্তা, যা কখনো পরিবর্তন হবে না।

৪. কোরআন সর্বজনীন ও চিরন্তন পথনির্দেশ। তাই সবসময় কোরআন থেকে শিক্ষা গ্রহন করা জরুরি।

৫. সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষের স্বভাব। আর অহংকার ও অজ্ঞতা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়—এ থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

৬. ইসলাম মানুষকে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং প্রমাণ, যুক্তি ও সত্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানায়।