সব খবর

কেমন মানুষ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর স্বামী

নিউজ ডেস্ক১৫ জুলাই ২০১৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীর স্বামী তিনি; স্বাভাবিকভাবেই ফিলিপ মে’কে এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে পাদপ্রদীপের আলোয়।

 

আড়ালের জীবন থেকে ফিলিপ মে’কে সোমবার অনেকটা হঠাৎ করেই সামনে আসতে হয়েছে; ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সিঁড়িতে ৩৬ বছরের সঙ্গিনী টেরিজাকে আলিঙ্গণ করে তার উৎফুল্ল সমর্থকদের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে ক্যামেরার সামনে।

 

বিবিসি লিখেছে, তাদের সেই হাসিমুখের ছবি যেমন পত্রিকার প্রথম পাতায় আলো ছড়িয়েছে; তেমনি সুযোগ করে দিয়েছে টেরিজা মে’র ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার, যা তিনি এতোদিন সযত্নে আড়াল করে এসেছেন।

 

একজন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে মোটামুটি নীরবে নিভৃতে জীবন পার করে আসা ফিলিপ মে’কে তেমন ব্যক্তি বলে মনে হয় না, যিনি প্রধানমন্ত্রীর স্বামী হিসেবে সবার নজর কাড়তে চাইবেন।

 

ফিলিপ মে’কে এরই মধ্যে অনেকে ডেনিস থ্যাচারের কাতারে ফেলে দিচ্ছেন, যিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের স্বামী হিসেবে সহযোগীর ভূমিকা নিয়েই খুশি ছিলেন। স্ত্রীকে তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে মতামত দিয়ে সহযোগিতা করলেও প্রকাশ্যে যে কোনো বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন সব সময়।

 

রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

যে সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে ডেনিস থ্যাচার এসেছেন, তার সঙ্গে ফিলিপ মে’র মিল নেই। নরফোকে জন্ম নেওয়া ফিলিপ বেড়ে উঠেছেন মার্সিসাইডে, পড়েছেন গ্রামার স্কুলে, তারপর অক্সফোর্ডে গেছেন ইতিহাস পড়তে।

 

ফিলিপের মা ছিলেন ফরাসি ভাষার শিক্ষক, বাবার ছিল জুতোর পাইকারি ব্যবসা। ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাশনেবল জুতোর প্রতি টেরিজা মে’র যে দুর্বলতা, তা হয়তো ওখান থেকেই এসেছে।

 

ফিলিপ মে আরও একটি দিক দিয়ে ডেনিস থ্যাচারের মত নন। তরুণ বয়সে ফিলিপ মে নিজেও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করতেন।

 

১৯৭৬ সালে অক্সফোর্ড কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের ডিস্কোতে ফিলিপের সঙ্গে টেরিজার পরিচয় ঘটে। তার তিন বছর পর ফিলিপ মে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হন।

 

ওই পথ ধরে অনেকেই পরবর্তী জীবনে ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। সমসাময়িকদের মধ্যে কনজারভেটিভ নেতা অ্যালান ডানকানও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এই দম্পতির সঙ্গে তার বন্ধুত্বও ছিল।

 

টোরি সরকারের মন্ত্রী ডেভিড অয়লেটস, ডোমিনিক গ্রিভ ও ডোমিনিক গ্রিন এবং রাজনীতি বিষয়ক সাংবাদিক মাইকেল ক্রিকও ফিলিপের কাছাকাছি সময়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

 

সেই সময়ে অক্সফোর্ডের রাজনীতির আকাশে তারকা ছিলেন বেনজির ভুট্টো, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। বলা হয়, বেনজীরই অক্সফোর্ডে ফিলিপকে তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

 

‘দারুণ সহযোগিতা’

ক্রিকেটভক্ত এই জুটির বিয়ে হয় ১৯৮০ সালে, অক্সফোর্ডশায়ারে টেরিজার বাবার চার্চে।

 

তাদের বিয়ের অল্প কিছদিনের মধ্যে মিসেস মে’র বাবা অ্যংলিকান চার্চের ভাইকার (জাজকের ডেপুটি) হুবার্ট ব্রেজিয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পরে মারা যান। আরও কয়েক মাস পর মারা যান ফিলিপের শাশুড়ি জেইডি; অসুস্থতার কারণে যাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হত।

 

টেরিজা মে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি জানতে না দিলেও ফিলিপের কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পাওয়ার কথা বলেছেন, যে কি না বয়সে তার চেয়ে দুই বছরের ছোট।

 

তাদের কোনো সন্তান না থাকা নিয়ে সম্প্রতি খানিকটা বিষাদের সুরও পাওয়া গেছে টেরিজা মে’র কণ্ঠে।

 

উইম্বলডন কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের পদটি বাদ দিলে ফিলিপ মে অনেক আগেই তার নিজের রাজনৈতিক উচ্চাশা বাদ দিয়েছেন বলে মনে হয়। বরং স্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শিখরে পৌঁছানোর মন্থর পথে সব সময় পাশে ছিলেন তিনি।

 

ফিলিপ নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা হিসেবে; পালন করেছেন ফান্ড ম্যানেজারের দায়িত্ব। ২০০৫ সাল থেকে তিনি ক্যাপিটাল গ্রুপের রিলেশনশিপ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন আসছিলেন।

 

তার স্ত্রীর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির পর ক্যাপিটাল গ্রুপ এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিপ পোর্টফোলিও ম্যানেজার নন, তিনি আর্থিক ব্যবস্থাপনার কোনো বিষয়ও দেখভাল করেন না। সেবা নিয়ে গ্রহকরা খুশি কি না- তা নিশ্চিত করাই তার কাজ।

 

বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক অনুষ্ঠানে এই দম্পতির মধ্যে ফিলিপই বেশি মিশুক। তবে তিনি এমন লোক নন, যে স্ত্রীর ওপর থেকে সবার নজর নিজের দিকে টেনে আনতে চাইবে। স্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা হয়তো তিনি করবেন, কিন্তু সব সময় স্ত্রীর পাশেই থাকবেন।

 

এই দম্পতির এক বন্ধু গার্ডিয়ানকে বলেন, “ফিলিপ আসলেই দারুণ। সে আর দশজনের মতো স্বাভাবিক একজন মানুষ, টেরিজার মতোই উজ্জ্বল। পরষ্পরের প্রতি তাদের ভালোবাসা এখনও একবিন্দু কমেনি। তাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ধুত্বও রয়েছে।”

সূত্র: বিডি নিউজ