সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে একটি মৃত ডলফিন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে ডলফিনটির মৃতদেহ ভেসে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

তাই দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। এ প্রজাতির মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট নেই।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল এবং বড় নদীতে এদের বিচরণ। বিপন্ন এই প্রজাতি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য স্পষ্ট অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির বার্তা দেয়।
দ্রুত কারণ উদ্ঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘বার বার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকির ইঙ্গিত। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।’
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপরার সদস্যরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেন।









