শিক্ষা

‘কাফন পড়তে, কফিনে শুতে আসিনি’

নিউজ ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিপুর মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় ও একটি কফিন দিয়েছে। মনে হচ্ছে, তারা কাফন, কফিন আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিল। কিন্তু আমরা হত্যাকাণ্ডের পরের প্রস্তুতি নয়, হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রস্তুতি দেখতে চাই। যাতে আর কোনও হত্যাকাণ্ড আমাদের দেখতে না হয়। কারণ, আমরা কাফন পড়তে আসিনি, কফিনে শুতে আসিনি।’

 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর ‘হত্যা’ সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে গণযোগাগোয ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুলাহীল বাকী এসব কথা বলেন। শনিবার বেলা ১১টায় বিভাগের সামনে বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ সময় মানববন্ধনে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতি যোগ দেয়।

 

আব্দুলাহীল বাকী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের সীমানায় নিরাপদ নয়। হলের মতো নিরাপদ জায়গায় শিক্ষার্থীরা খুন হচ্ছে। আমার জানা মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ যাবৎ যতগুলো হত্যা হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। হত্যাকারীরা এ ক্যাম্পাসকে খুন করার উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বাছায় করেছে।’

 
মানববন্ধনে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘আমাদের বারবার এখানে দাঁড়াতে হয়। একবার শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের জন্য, একবার শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের জন্য। আমাদের এক শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, যদি প্রশাসন সচেষ্ট হয় তাহলে এই হত্যাকা- অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বের করতে পারে, কারা এটা ঘটিয়েছে। আমি এই বিভাগের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। বিচার দেখতে চাই।’

 
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও আমার দাবি, যদি এই ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকে তাহলে কেউ নিরাপদ নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরকে আর রক্তপুরী দেখতে চাই না। আমরা চাই না, এভাবে আবারও মানববন্ধনে দাঁড়াতে।’

 

হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি করে বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আতিক সাদ্দাম বলেন, ‘প্রশাসন এখন শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের লাশ উপহার দিচ্ছে। এর শেষ কবে। বাবা-মা আমাদের পড়ালেখার জন্য পাঠায় লাশ হয়ে ফেরার জন্য নয়।’

4-copy

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘আমার ভায়ের লাশ তার মায়ের কোলে তুলে দিয়ে এসেছি। আর কত মায়ের স্বপ্নভঙ্গ করে তার মায়ের কোলে তুলে দিতে হবে?’

 

বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ রিন্টু বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা আবাসিক হল। আর সেখানে শিক্ষার্থীরা খুন হচ্ছে। আমি লিপুর মায়ের কাছে কোনও উত্তর দিতে পারিনি। তার মা আমাকে বলেছিল, ‘তোমরা এর বিচার করো বাবা, বিচার করো’। আমরা বিচার চাই, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা আর কোনও মায়ের বুক খালি হতে দেবো না।”

 

বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামে সঞ্চালনা আরও বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ, মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, জোবয়দা শিরিন, আতিক সাদ্দাম, শামীম, তৃতীয় বর্ষের আলী হোসাইন মিঠু, সাব্বিরা মুন্নি, রাইসা জান্নাত প্রমুখ।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সামনে লিপু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি।

 

গত ২০ অক্টোবর নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডাইনিং-এর ড্রেন থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশ হত্যাকা- বলে ধারণা করে। ওইদিন লিপুর চাচা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স/শ