সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে কলেজশিক্ষার্থী চৌধুরী ফুয়াদ হোসেন রোহান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোহান হত্যা মামলার মূল আসামি ফিরোজ সরদার বাবু, মো. রিয়াজ সরদার ও মো. শরীফসহ চারজনের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে এলাকায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত ফুয়াদ হোসেন রোহান রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন আগে বাসা থেকে ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ হয় রোহান। নিখোঁজের চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাকুরীকান্দা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় মরদেহের পেটে ধারালো অস্ত্রের কাটা জখম পাওয়া যায়। ঘাতকরা তাকে হত্যার পর পেটে কেটে বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে ৪০০ গজ দূরের ডোবায় ফেলে রেখেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের নাম-পরিচয় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সংঘবদ্ধভাবে পর্যায়ক্রমে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাদের পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দেওয়ায় বাড়িগুলো তালাবদ্ধ ছিল।
রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে রোহান হত্যা মামলায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বক্তারপুর এলাকার মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. গনি সরদারের ছেলে মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং মো. সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।
শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা ও রক্তমাখা টি-শার্টসহ নানা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।









