সব খবর

করোনা ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় যেভাবে

নিউজ ডেস্ক১৬ এপ্রিল ২০২০৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস- এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। যে ভাইরাস কাবু করে রেখেছে পুরো পৃথিবীকে। ঘরবন্দি করে রেখেছে কোটি কোটি মানুষকে। যার কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

তবে করোনা ভাইরাস কি নতুন কোনো ভাইরাস? কবে প্রথম সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো এই ভাইরাসটির? কীভাবেই বা আবিষ্কার হলো ভাইরাসটি?

মূলত, কোভিড-১৯ একটি নতুন ধরণের ভাইরাস, তবে সেটি করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতি। ১৯৬৪ সালে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের গবেষণাগারে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত করেছিলেন ড. আলমেইডা।

মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব যিনি প্রথমবার আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি ছিলেন স্কটল্যান্ডের একজন বাস চালকের কন্যা। তার নাম জুন আলমেইডা।

জুন আলমেইডা ভাইরাস ইমেজিংয়ের একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। যার কাজ এখন আবার করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সময় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

১৯৬৪ সালে জুনে আলমেইডাকে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে কাজ করার জন্য প্রলুব্ধ করে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর এই হাসপাতালেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।

ফিরে আসার পর তিনি ডক্টর ডেভিড টাইরেলের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন, যিনি উল্টশ্যায়ারের সালসবিউরিতে সাধারণ ঠাণ্ডা নিয়ে গবেষণা করছিলেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিবিসি জানিয়েছে, ডক্টর টাইরেল স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে অনুনাসিক ধোয়ার ওপর গবেষণা করছিলেন। তাদের দল দেখতে পায় যে, তারা বেশ কয়েকটি সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস বৃদ্ধি করতে পারছিলেন, কিন্তু সবগুলো নয়।

তার মধ্যে একটি বিশেষভাবে নজরে আসে। সেটির নাম দেয়া হয়েছিল বি-৮১৪, যা এসেছিল ১৯৬০ সালে সারের একটি বোর্ডিং স্কুলের একজন ছাত্রের কাজ থেকে। তারা দেখতে পান, সাধারণ সর্দি-কাশির কয়েকটি লক্ষণ স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে তৈরি করতে পারলেও, সেগুলো তাদের নিয়মিত কোষের ভেতরে আর বেড়ে উঠতে পারে না।

তবে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রত্যঙ্গের মধ্যে কিছু বৃদ্ধি দেখিয়েছিল। সেটা দেখে অবাক হয়ে ড. টাইরেল ভাবলেন, এটা কোন বৈদ্যুতিক মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। তারা সেসব নমুনা জুন আলমেইডাকে পাঠান, যিনি নমুনার মধ্যে ভাইরাস কণা দেখতে পান। সেগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো দেখতে হলেও পুরোপুরি তা নয়।

তিনি যা শনাক্ত করেছিলেন, সেটি বিশ্বে পরবর্তীতে করোনা ভাইরাস হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

ড. আলমেইডা ইঁদুরের মধ্যে হেপাটাইটিস এবং মুরগির সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস তদন্ত করার সময় এর আগে এ ধরণের কণাগুলি দেখেছিলেন। তা সত্ত্বেও, পিয়ার-রিভিউড জার্নালে পাঠানো তার নথিটি বাতিল করে দেয়া হয়েছিল। কারণ রেফারিরা বলেছিলেন, তিনি যেসব ছবি দিয়েছেন, সেগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কণার বাজে ধরণের চিত্র।

বি-৮১৪ আবিষ্কারের বিষয়ে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি করোনা ভাইরাসের প্রথম যে চিত্র দেখেছিলেন, সেটি প্রকাশিত হয় দুই বছর পরে জেনারেল ভাইরোলজি জার্নালে।

বিবিসির তথ্য অনুসারে, ড. টাইরেল ও ড. আলমেইডার পাশাপাশি অধ্যাপক টনি ওয়াটারসন, যিনি সেন্ট থমাসের দায়িত্বে ছিলেন, তারা ওই ভাইরাসের নামকরণ করেন করোনা ভাইরাস, কারণ ভাইরাসের চারপাশ জুড়ে অনেকটা মুকুটের মতো সাদৃশ্য ছিল। ড. আলমেইডা পরবর্তীতে লন্ডনের পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল স্কুলে কাজ করেন, যেখানে তিনি ডক্টরেট সম্মানে ভূষিত হন।

২০০৭ সালে, ৭৭ বছর বয়সে জুন আলমেইডা মৃত্যুবরণ করেন।

 

সূত্রঃ সময়