
করোনার তাণ্ডবে আমাদের সবার মনেই এখন যে কোনও মুহূর্তে সংক্রমিত হওয়ার ভয়। করোনা থেকে বাঁচতে মেনে চলতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি আর বেশি কিছু নিয়ম। বাড়িতেই ঢুকেই কাপড়চোপড় সহ সবকিছু স্যানিটাইজ করতে হচ্ছে। তবে শীতের পোশাকের ক্ষেত্রে কি করবেন? প্রতিদিন কি শীতের পোশাক পরিষ্কার করা জরুরী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
জীবিকার প্রয়োজনে নিয়ম করে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। কাজ শেষে বাস বা রিক্সায় করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। শত চেষ্টা করে কাপড় চোপড়কে স্পর্শের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব না। এজন্য বাসায় ফিরেই নিজের জামা কাপড় পরিষ্কার করতে হচ্ছে। তবে শীতের পোশাক প্রতিদিন পরিষ্কার করা সম্ভব না।তবে বাইরের জামা কাপড় স্যানিটাইজ না করে ফেলে রাখবেন যে, তাতে ভরসা কি? এজন্য জানতে হবে জামা কাপড়ে কতক্ষণ ভাইরাস টিকে থাকতে পারে।

ভাইরাস কাশি বা হাঁচি থেকে নিসৃত ড্রপলেটের সাহায্যেই আটকে থাকে যে কোনও তলে। আর এই ড্রপলেট বা মিউকাস অতিছিদ্রসম্পন্ন তলে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। কারণ, ড্রপলেট বা মিউকাস থেকে অতিছিদ্রসম্পন্ন তল টেনে নেয় সমস্ত জলীয় পদার্থ। আর ড্রপলেটের পানি ছাড়া এই ভাইরাস বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না।
যে কোনও ধরনের কাপড় তা শীতের পোশাকের রয়েছে অতিচ্ছিদ্র সম্পন্ন তল। তাই যেকোনও কাপড়েই বেশিক্ষণ থাকতে পারে না ভাইরাস। ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, কাপড়ে বড়জোর ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে ভাইরাস। গরম কাপড়ের জামার ক্ষেত্রেও এই সময় একই। এক্ষেত্রে শীতকালে পরার গরম জামা দু সেটই যথেষ্ঠ। একটা একদিন পরে ২৪ ঘন্টা পর আবার একটা পরা যাবে।
তবে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য ওই জামাটিই ইস্ত্রি করে নিয়ে পরা যেতে পারে। গরম কিছুর সংস্পর্শে এলে শুকিয়ে যাবে ড্রপলেট। নষ্ট হবে ভাইরাস। অথবা রোদে ঘণ্টাখানেক রাখলেও চলবে। তাতেও ড্রপলেট শুকিয়ে যাবে।
সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে এই ধরনের জামাকাপড় বাড়িতে রাখবেন কী ভাবে? ১২-১৩ ঘণ্টা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া মোকাবেলা করবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে বাড়িতেই একটা আলাদা জায়গা তৈরি করুন। যেখানে বাইরের জামা কাপড় আলাদা করে কারও স্পর্শ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর সরিয়ে নিতে পারেন সেখান থেকে।
তবে প্লাস্টিক বা ধাতব জিনিস হলে সতর্ক হতে হবে। কারণ প্লাস্টিক বা ধাতবে ৫ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে ভাইরাস।
সূত্র: আনন্দবাজার








