করোনাকালীন ব্যর্থতার দায়ে বিএনপিকে মানুষ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি করোনাভাইরাসের সংকটের শুরু থেকে বিএনপি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমি মনে করি এই দায়িত্বশীল ভূমিকায় যারা ব্যর্থতার পরিচয় দিবে, তাদেরকে আগামী বাংলাদেশের মানুষ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্ভোধনের সময় এ কথা বলেন তিনি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ, যে দেশগুলো স্বাস্থ্য সেবায় সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেয় তাদেরও অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখা যায়। অথচ আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার সাহসিকতার সঙ্গে এই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে অনেক ধরনের সমালোচনা করেন, তিরস্কার করেন। বাস্তবতা হলো, ইউরোপসহ আমেরিকা রাশিয়ায় লাখ লাখ মানুষ শনাক্ত হচ্ছে, আবার হাজার হাজার মানুষ সেখানে প্রাণ হারাচ্ছেন। ইতালিতে দেড় লাখ শনাক্ত হয়েছে সেখানে ২৯ হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে। বাংলাদেশে এক লাখ ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে , সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আমরা কীভাবে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসকে নিয়ে রাজনীতি নয়, আজকে করোনাকে নিয়ে যে সকল রাজনৈতিক দল সমালোচনা করছেন বিশেষ করে বিএনপি। আমরা ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে দেখেছি, দুই লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে, কোনো ধরনের সাপোর্ট সরকারিভাবে দেয়া হয়নি। পশু-প্রাণী-মানুষ এক সঙ্গে দাফন করা হয়েছে। একইভাবে গণকবর দেয়া হয়েছে, অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে সেই রকম অবস্থা তৈরির কছে ধারেও নেই।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সমগ্র পৃথিবীর কোথাও প্রস্তুত ছিল না। সেখানে মুখরোচক সমালোচনা করে আজকে বাংলাদেশের মানুষকে আতঙ্কিত না করে সঠিক রাস্তায় আমাদের হাঁটতে হবে এবং সরকার যে ব্যবস্থাগুলো নিচ্ছে সেই ব্যবস্থার কোন জায়গাগুলোতে ত্রুটি আছে, সেই জায়গাগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

খালিদ মাহমুদ বলেন, আমাদের অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতার কিছুটা অভাব আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবার জন্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য আজকে সেই জায়গাটিতে অভাব আমরা লক্ষ্য করছি। এই করোনাভাইরাস সমগ্র পৃথিবীতে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনতার মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব। আমাদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাদুর্ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। সচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের ছাঁটাই বন্ধ করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে শেখ হাসিনা ছাড়া এত গণমাধ্যম বান্ধব নেতা আর আছে বলে আমার মনে হয় না। শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের কথা যেভাবে চিন্তা করেন, সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কথাও চিন্তা করেন। করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রণোদনার আওতায় নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, গত দুই মাস যাবৎ সরকার এই কর্মহীন মানুষদের পাশে থেকেছেন। অনেকেই অনেক ধরনের আশঙ্কা করেছিলেন, যে এখানে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছেন এই দুই মাসে এমন একটি সংবাদও প্রকাশ হয়নি, যে সংবাদে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি খুব দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক বিত্তবান যারা অনেক বড় বড় গণমাধ্যম পরিচালনা করেন তারা কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন জায়গায় অনুদান হিসেবে দিচ্ছেন। কিন্তু সেই জায়গা থেকেও গণমাধ্যম কর্মীদের ছাটাই করা হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। এখানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে আমি মনে করি। আশা করছি গণমাধ্যম কর্মীদের ছাঁটাই বন্ধ করবেন। ক্ষমতা প্রযোগ করে ছাঁটাই করাটা দুঃখজনক। গণমাধ্যমকে চটিয়ে কেউ কখনও এগিয়ে যেতে পারে না। এই ভুল রাস্তায় আপনারা হাঁটবেন না কখনও ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য গণমাধ্যম একটি স্তম্ভ। এটাকে দুর্বল করে বাংলাদেশে কখনও উন্নয়ন এবং অগ্রগতি হতে পারে না, এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অগ্রগতি গণমাধ্যম তুলে ধরেছে বলেই সমগ্র পৃথিবীতে প্রশংসা হচ্ছে। কাজেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের পাশে আছেন এবং থাকবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজের) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান, অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর । সূত্র: জাগোনিউজ