রাজশাহী

করোনা আতঙ্ক: রাজশাহীর মসজিদে জামাতে নামাজ বন্ধ

নিউজ ডেস্ক৬ এপ্রিল ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজশাহীতে অনিদিষ্ট কালের জন্য মসজিদে জামাতে নামাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল ) সরকারি নির্দেশনা মোতবেক বাদ আসর থেকে নগরীর বিভিন্ন মসজিদে জামাতে নামাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে জরুরি ভাবে মাইকে ঘোষণা করে সরকারি এই সিদ্ধান্ত সাধারন মুসল্লিদের জানিয়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ সর্বোচ্চ পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের কোনও মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

আজ সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। একইসঙ্গে সব মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাধারণের প্রার্থনা না করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো এবং এ নির্দেশনা অমান্য করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরে লিখেন,

ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মপ্রাণ ভাইদের অবগতির জন্য মসজিদে নামাজ আদায় ও উপাসনা সংক্রান্ত নির্দেশনা। সকল ইউএনওকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে মাইকযোগে ব্যাপক প্রচার ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হলো।

অপর দিকে, আজ সকাল থেকে মহানগরীর প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশ সদস্যরা এই কড়াকড়ি আরোপ করছেন। ফলে শহরের লোকজন বর্তমানে রাজশাহী থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারছে না বা বাইরের জেলা থেকে শহরে ঢুকতেও পারছেন না।

মূল শহরে প্রবেশের আগে কয়েকটি মোড়েও অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সড়কে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এভাবে মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া জনসমাগম ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।

তবে জেলায় এখনো ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার  মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

এদিকে এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য আজ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী শহর এলাকা থেকে কেউ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে পারবেন না, আবার বাইরের থেকেও কেউ শহরে ঢুকতে পারবে না।

এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে কেবল ওষুধের দোকান ছাড়া কোনো দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না। এছাড়া জরুরি সেবা বাদে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানান।

স/অ