জাতীয়

কমলনগরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

নিউজ ডেস্ক৩ জুন ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শারমিন আক্তার মুক্তা (২০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) ভোর রাতে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মুক্তা উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার প্রবাসী হাসানের স্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভতী গ্রামের বাহার মিয়ার মেয়ে। তাদের ঘরে তামান্না নামে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ৩ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হাসানের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেয়।

এর মধ্যে আড়াই বছর আগে জীবিকার তাগিদে হাসান সৌদি আরব চলে যান। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে মুক্তার ননদের জামাই স্বপন তাকে প্রায় সময় কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ত করত। এমনকি গোপনে মুক্তা ঘুমিয়ে পড়লে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল স্বপন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয় তাদের মধ্যে।

পরে বিষয়টি দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হলে স্বপনকে সতর্ক করা হয়।
নিহতের শাশুড়ি রুবি বেগম জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তার দুই মেয়ের জামাই (যার মধ্যে স্বপনও ছিল) বাড়িতে আসে এবং রাত্রিযাপন করে। গভীর রাতে তিনি তার মেজো ছেলের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। রুমে গিয়ে দেখতে পান, মেয়ের জামাই স্বপন ও অন্যরা মুক্তাকে ঘরের বারান্দায় শুইয়ে দিচ্ছে। তখন কাছে এসে দেখতে পান মুক্তা জীবিত নেই।

এদিকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও লাশের গলায় নখের আঁচড় পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে থাকায় এটি আসলে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। এতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।

তবে মুক্তার চাচা ফজর আলী মাঝি ও জেঠাতো ভাই নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তা আমাদের অনেক আদরের মেয়ে ছিল। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্বপন তাকে কুপ্রস্তাব ও গোপন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এ ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে মুক্তার শ্বশুর নিজাম উদ্দিন লোকলজ্জায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, স্বপন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। ঘটনার পর থেকে মুক্তার শ্বশুর, দেবর ও দুই ননদের জামাই স্বপনসহ পুরুষ সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গলার আঘাতের চিহ্নসহ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’