ছবিঘর

ঐশ্বরিয়ার ইমেজ ভাঙতে চেয়েছিলাম : সুভাষ ঘাই

নিউজ ডেস্ক১৩ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘তাল’। অক্ষয় খান্না, ঐশ্বরিয়া রাই ও অনিল কাপুর অভিনীত ছবিটি সে সময় দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

মুক্তির ২৭ বছর পর ছবিটির কাস্টিং নিয়ে পুরনো স্মৃতি শেয়ার করেছেন পরিচালক সুভাষ ঘাই। বিশেষ করে ঐশ্বরিয়াকে কেন বেছে নিয়েছিলেন এবং তার পরিচিত ইমেজ থেকে কেন বের করে আনতে চেয়েছিলেন, তা জানিয়েছেন তিনি।
‘তাল’-এ অক্ষয় খান্না ও ঐশ্বরিয়া রাই দুজনই তখন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ছিলেন। দুজনেরই অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল ১৯৯৭ সালে।

ফলে তাদের মতো তুলনামূলক নতুন মুখকে নিয়ে ছবি করার সিদ্ধান্তে সে সময় কিছুটা আপত্তিও ছিল। তবে সুভাষ ঘাই শুরু থেকেই চেয়েছিলেন, ‘তাল’-এ বড় তারকার বদলে নতুন মুখ থাকুক।
অক্ষয় খান্নাকে ছবিতে নেওয়ার বিষয়ে সুভাষ ঘাই জানান, অক্ষয়ের বাবা অভিনেতা বিনোদ খান্না তাকে পরিচালকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। অক্ষয়কে দেখে তার মধ্যে একটা (ইনটেন্স) তীব্রতা বা গভীরতা লক্ষ্য করেছিলেন সুভাষ।

সেই কারণেই তাকে পছন্দ হয় পরিচালকের।

অন্যদিকে ঐশ্বরিয়া রাইকে ছবিতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন কোরিওগ্রাফার সরোজ খান। ‘তাল’-এর গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মানসি ছিলেন ছোট শহরের একজন প্রতিভাবান গায়িকা ও নৃত্যশিল্পী। তাই এমন একজন অভিনেত্রী দরকার ছিল, যিনি ভালো নাচতে পারেন। মাধুরী দীক্ষিতের পর কাকে নেওয়া যায়—সরোজ খানের কাছে এমন প্রশ্ন করেছিলেন সুভাষ ঘাই।

উত্তরে তিনি ঐশ্বরিয়ার নাম বলেন।

ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে সুভাষ ঘাইয়ের পরিকল্পনাও ছিল আলাদা। তার ভাষায়, ঐশ্বরিয়ার তখন সৌন্দর্য ও কসমেটিকস জগতের সঙ্গে যুক্ত একটি আলাদা ইমেজ তৈরি হয়েছিল। তাই ‘তাল’-এর চরিত্রের জন্য সেই ইমেজ ভেঙে তাকে একেবারে অন্যভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি।

সুভাষ ঘাই বলেন, ‘ঐশ্বরিয়ার কসমেটিকস জগতের একটি ইমেজ ছিল। আমি তাকে ডেকে বলেছিলাম, তোমার এই ইমেজটা আমাকে ভাঙতে হবে। প্রথম এক ঘণ্টায় তোমাকে কোনো মেকআপ করতে হবে না। তিনি বলেছিলেন, আপনি যা বলবেন, আমি সেটাই করব।’

পরিচালকের মতে, একজন অভিনেতাকে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের পরিচিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে জানতে হয়। ‘তাল’-এ ঐশ্বরিয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সেটিই করতে চেয়েছিলেন।

ছবির গল্পে ধনী পরিবারের ছেলে মানবের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় খান্না। অন্যদিকে মানসি ছিলেন ছোট শহরের মেয়ে। দুজনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হলেও সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে সেই সম্পর্কে জটিলতা আসে। পরে সংগীত পরিচালক বিক্রান্তের চরিত্রে অনিল কাপুরের প্রবেশ ঘটে। মানসির প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসার পাশাপাশি তিনিই শেষ পর্যন্ত তাকে তার ভালোবাসার মানুষের কাছে ফিরে যেতে সাহায্য করেন।

‘তাল’-এর গানও ছবিটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। এ আর রহমানের সুরে ‘তাল সে তাল মিলা’ ও ‘ইশ্‌ক বিনা’র মতো গান এখনও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়। ছবিটি মুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারেও ভালো সাড়া পেয়েছিল এবং সে সময় ভ্যারাইটির বৈশ্বিক বক্স অফিস তালিকার সেরা ২০-এ জায়গা করে নেওয়া প্রথম ভারতীয় ছবি হয়।

এদিকে ‘তাল’-এর সিক্যুয়েল নিয়েও কাজ করছেন সুভাষ ঘাই। তার বক্তব্য, ‘তাল ২’-এও তিনি নতুন মুখ নিতে চান। মূল ছবির মতোই নতুন চরিত্র ও নতুন মুখের মাধ্যমে গল্প বলার পরিকল্পনা রয়েছে তার।