ছবিঘর

একদিন গভীর রাতে হঠাৎ মাথায় সুরটা এলো

নিউজ ডেস্ক১৮ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

গতকাল প্রকাশিত হয়েছে ইমরান মাহমুদুলের নতুন গান ‘পারব না তোমাকে ছাড়তে’। এবারই প্রথম নিজের লেখা কথায় গাইলেন। গান ও সমাসাময়িক অন্যান্য প্রসঙ্গে জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।

‘পারব না তোমাকে ছাড়তে’ গানটি নিয়ে বলুন…
এটি ‘বরবাদ’ ছবির জন্য বানিয়েছিলাম।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় আমাকে গানটির আগের ও পরের গল্প বলেছিলেন। একদিন গভীর রাতে হঠাৎ মাথায় সুরটা এলো। তখন সুরের ওপর নিজেই কথা লিখে ফেললাম। ভেবেছিলাম পরে পেশাদার গীতিকার গানটি লিখে দেবেন।

কিন্তু দ্রুত ডেমোটা দরকার ছিল পরিচালকের। ফলে আমার লেখা কথার ডেমোটা পাঠালাম। তিনি পছন্দও করেছিলেন। যদিও পরে এ গানটির বদলে ‘বরবাদ’-এ ব্যবহৃত হয়েছে ‘মায়াবী’।

এরপর মনে হলো গানটি চূড়ান্ত করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করি। ডেমো গানটার সংগীতায়োজন সম্পন্ন করে হুমায়রা ঈশিকার সঙ্গে নতুন করে কণ্ঠ দিলাম। সুন্দর একটা গানচিত্র তৈরি করলাম। শ্রোতারা ফিল্মিক ঘরানার এই গান বেশ পছন্দও করছেন। দারুণ দারুণ মন্তব্যও করছেন।

এর আগে আপনার আরো ছয়টি গানচিত্রে মডেল হয়েছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। চারটিতে আপনিও আছেন তাঁর সঙ্গে। আপনাদের রসায়ন দর্শক পছন্দ করেন বলেই কি এবারও তাঁকে নিয়েছেন?
এক কথায় বললে, ‘হ্যাঁ’। ‘এতো ভালোবাসি’, ‘পরাণ বন্ধুরে’, ‘আলো’—এই গানগুলো শ্রোতারা খুব পছন্দ করেছিল। ‘এতো ভালোবাসি’ তো প্রায় চার কোটির কাছাকাছি ভিউ হয়েছে ইউটিউবে। কেয়া কলিগ হিসেবেও দারুণ। কাজের ব্যাপারে খুব আন্তরিক। গান প্রকাশের পর সে প্রচার-প্রচারণায়ও সময় দেয়। এটা ভালো লাগে। আমাদের চার বছর কোনো কাজ হয়নি। এই সময়ে দর্শক-শ্রোতারা আমাকে বারবার প্রশ্ন করেছে, কবে আবার কেয়ার সঙ্গে দেখা যাবে! আবার তাই কেয়ার সঙ্গে ফেরা।

এটিরও ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। তাঁর সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাক কাজ করছেন…
আগে তো চন্দন রায় চৌধুরীসহ অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। তবে সৈকত রেজার সঙ্গে কাজ করে আলাদা একটা মজা পাই। সে খুব বাজেটবান্ধব। আমি যেটা ফ্রেমে চাই, সেটাই হাজির করে। কত কমে সেটা করা যায় সেই চেষ্টা করে সব সময়। তা ছাড়া ওর মেকিং দেখলেও বুঝবেন। পুরোটাই ফিল্মিক। একটা সাধারণ লোকেশনকেও ফ্রেমে অসাধারণ করে তুলে ধরার ক্ষমতা সৈকতের আছে। সেই জন্যই আমার শেষের দিকের সব কাজ সৈকতই করেছে।

আপনাকে এখন লেবেল কম্পানির গানে পাওয়া যাচ্ছে না। কেন?
অডিও প্ল্যাটফর্ম বিলিভের সঙ্গে আমার একটা চুক্তি হয়েছে এক বছরের। চুক্তি অনুয়ায়ী আমি চলচ্চিত্র ও নাটকের গান করতে পারব সবার জন্য। শুধু আমার প্রোডিউস করা গানগুলো বিলিভের সঙ্গে করতে হবে। এই কারণে এখন অন্যদের সঙ্গে গান করতে পারছি না।

আপনার গানগুলোতে নিজেই নায়কের বেশে হাজির হচ্ছেন। নাটক-সিনেমার নায়ক হবেন?
এখন পর্যন্ত ইচ্ছা নেই। যদি কখনো কোনো ক্যামিও চরিত্র হয়, তাও আবার আমার পছন্দের, মানে গান রিলেটেড তখন চিন্তা করা যাবে। আমি দীর্ঘ সময় ফ্রেমে থাকতে পারব বলে মনে হয় না।

চলচ্চিত্রের জন্য নতুন গান করেছেন?
এখন তো ঈদকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র হয়। ঈদের ছয়-সাত মাস বাকি। ফলে কাজ সেভাবে শুরু হয়নি। এর মধ্যে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অগ্রিম চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছি। সেগুলোর গল্প-কাস্টিং চূড়ান্ত হলে গান তৈরি শুরু করব। অবশ্য কিছুদিন আগে একটা চলচ্চিত্রে গেয়েছি। সেটার সুর-সংগীত করেছেন ইমন সাহা দাদা।

দেশের বাইরে কোনো ট্যুর আছে এর মধ্যে?
কথা চলছে কয়েকটা দেশের আয়োজকদের সঙ্গে। ভিসা পেলে চূড়ান্ত করতে পারব। এমনিতে ২০২৬ সালে দেশের বাইরে আমার অনেক ট্যুর আছে। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ চূড়ান্তও হয়েছে।