রাজনীতি

উপজেলায়ও ভোটবর্জনের ডাক দেবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক২০ এপ্রিল ২০২৪৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মতো আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটবর্জনের ডাক দেবে বিএনপি। জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করবে দলটি। দেশের ৪৫০টি উপজেলা পরিষদে আগামী ৮ মে থেকে চার ধাপে ভোট হবে। যখন যে উপজেলায় ভোট হবে, সেখানে ভোটবর্জনের আহ্বান জানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি করবে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, কর্মসূচি হিসেবে লিফলেট বিতরণ, পথসভা, হাটসভার আয়োজনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোট বর্জনের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। আগামী সোমবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রচারণা শুরুর তারিখ নির্ধাারণ করার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৮ মে প্রথম ধাপের পর ২৩ ও ২৯ মে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ এবং ৫ জুন শেষ ধাপের ভোট হবে।

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচন বর্জনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে কর্মসূচি নেওয়া হবে। আশা করি, জনগণ সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করবে।

গত সোমবার ছিল প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। ওই দিন রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। স্থায়ী কমিটি বলেছে, এরই আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে দলের যে সিদ্ধান্ত তা পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তারা মনে করে, বর্তমান অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। সুতরাং এই উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। যদিও এর আগেই প্রথম ধাপের ১৫০টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কমবেশি বিএনপির ৪৫ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার বেশির ভাগই ভাইস চেয়ারম্যান। তবে বিএনপি মনে করে, তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয়-জেলা নেতারা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রায় সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে। গতকাল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক টিম আবারও বৈঠক করে কয়েক দফা প্রস্তাবনা লিখিত আকারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটবর্জনের ডাক দিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছিল বিএনপি। সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটবর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হবে। আশা করি, এবারও জনগণ সাড়া দেবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন- এমন নেতাদের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যাহারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে অন্যান্য ধাপের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী তাদের মধ্যে অনেকেই কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তাদের কৌশল হচ্ছে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হলে; বহিষ্কার নিশ্চিত। তাই বহিষ্কার এড়াতে প্রার্থী হওয়ার আগেই দলীয় পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন। এসব নেতাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দলের জানতে চাইলে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, পদত্যাগ করে নির্বাচনে গেলেও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জানান, বাকি ধাপের নির্বাচনে দলের কারা কারা প্রার্থী হতে আগ্রহী তাদের তালিকা করতে জেলা ও উপজেলা নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের কেউ যাতে ভোটে না যায় সেজন্য কাউন্সিলিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। তারপরও কেউ ভোটে অংশ নিলে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আবদুস সালাম আজাদ বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা যেন নির্বাচন থেকে সরে আসেন, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলেন। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বর্জন করা হবে।

 

 

ট্যাগ: