সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের পরও নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে শনিবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা কেজি। গত ৫ দিন ধরেই (মঙ্গলবার থেকে) বাজারে এ দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এ ৫ দিনে পণ্যটির দাম আর কমেনি। বরং উচ্চমূল্যেই স্থিতিশীল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার তদারকি বাড়ালে পণ্যটির দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে শনিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেছেন, জরুরিভাবে বিমানে করে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। দেশের বাজারে তা আসতে শুরু করেছে। জাহাজে করে মিসর থেকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আসছে, সেগুলো ২৯ নভেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া আর ১০ দিনের মধ্যে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে এসে যাবে। এ ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে।

তিনি আরও বলেন- সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে আমাদের এক লাখ টন করে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। ভারত রফতানি বন্ধ করার পর দেশে সেপ্টেম্বরে ২৫ হাজার টন আমদানি হয়েছে। অক্টোবরে হয়েছে ২৪ হাজার টন। এখনও ৭৫ হাজার টন করে ঘাটতি রয়েছে। আর এ ঘাটতির সুযোগ নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে আড়াই হাজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছি। জেলে পাঠিয়েছি। এর চেয়ে বেশি চাপ দিলে পরে দেখা যাবে বাজারে পেঁয়াজই থাকবে না।
অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম ভোক্তা সহনীয় করতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রাজধানীসহ সারা দেশে খোলা ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়েছে। সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এ সময় পণ্যটির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করায় একাধিক ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া গত ৪ মাস ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুলনা ও সাতক্ষীরার ১১ ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ঢাকায় তলব করেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বাদে আমদানি করা মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ শনিবার বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি। গত ৫ দিন ধরে এ দামেই মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ দাম তিন দিন আগের। এছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা। ৩ দিন আগেও এ দাম ছিল। মিসরের পেঁয়াজও ৩ দিন আগের দাম ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত আলী বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। যে কারণে দাম কমছে না। সরবরাহ বাড়লেই দাম কমতে শুরু করবে। তবে মনে হচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকে দাম আরও কমে আসবে। কারণ দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ পুরোপুরিভাবে বাজারে বিক্রি শুরু হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. মকবুল হোসেন বলেন, পেঁয়াজের দাম কমেছে কিন্তু এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে এখনও ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের বাজার তদারকি সংস্থা যদি ভালোভাবে তদারকি করে তাহলে পণ্যটির দাম আরও কমে আসবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা প্রতিদিন বাজার তদারকি করছি। বেশি দামে বিক্রির জন্য অসাধুদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া আজও রাজধানীর শ্যামবাজারে পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত তদারকি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, প্রথম অবস্থায় রাজধানী পর্যায়ে থাকলেও টিসিবির পক্ষ থেকে সারা দেশে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিক্রিও অব্যাহত আছে। আর পেঁয়াজের দর ভোক্তা পর্যায়ে সহনীয় না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
খুলনা ব্যুরো জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত ৪ মাস ধরে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুলনা ও সাতক্ষীরার ১১ ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সোমবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় তলব করেছে। এ সময়ে তাদের গত ৩ মাসে আমদানি ও বিক্রিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সঙ্গে নিতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিককে তলব করা হয়েছে সেগুলো হল- খুলনা নগরীর দৌলতপুরের শাহ ভাণ্ডার, সাতক্ষীরা জেলা সদরের কামালনগর এলাকার ফারাহ ইন্টারন্যাশনাল, ভোমরা শুল্ক স্টেশন এলাকার মেসার্স সোহা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজ, নুর এন্টারপ্রাইজ, শামীম এন্টারপ্রাইজ, বিএ এন্টারপ্রাইজ, আরডি এন্টারপ্রাইজ, মুক্তা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ ও মো. আবু জাফরের মালিকানাধীন সুপ্তি এন্টারপ্রাইজ।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে আজ সরকারি পর্যায়ে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে টিসিবি। নগরীর ৫টি পয়েন্টে ৪৫ টাকা কেজি দরে ট্রাকে বিক্রি করা হবে। শনিবারই নগরীর খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির কথা থাকলেও ঢাকা থেকে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক রাজশাহীতে পৌঁছায় বিকালে। ফলে এসব পেঁয়াজ ডিলারদের হাতে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে শনিবার দুপুরে পেঁয়াজ বেশি দরে বিক্রি করায় ৪টি আড়তে অভিযান চালিয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা আক্তার অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা আদায় করেন।
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে পৌরসদরের চাঁচকৈড় হাটে অভিযান চালিয়ে ৫ ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান ওই আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন- উজ্জল শেখ, মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. এনামুল হক, মো. টুটুল হোসেন ও মো. মোতালেব হোসেন।
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলের বাজার গত দু’দিন ধরে পেঁয়াজ নেই। বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজার শনিবার ঘুরে দেখা গেছে, দু-একটি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও তা ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে গত দু’দিন আগেও পেঁয়াজের কিছুটা দাম কমলেও একদিনের ব্যবধানে তা আবার বেড়েছে।









