সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
নিঃশর্ত ত্যাগ ও ভালোবাসার ঠিকানা ‘মা’। প্রথম মানবী হাওয়া (আ.), ইমরানের স্ত্রী হান্না/হানা/হিন্দা, জাকারিয়া (আ.)-এর স্ত্রী আশা বিনতে ফাকুজ, মারিয়াম (আ.), ইবরাহিম (আ.)-এর দুই স্ত্রী বিবি সারা ও বিবি হাজেরা, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আজিজে মিসরের স্ত্রী, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া, মুসা (আ.)-এর মাতা ইউকাবাদ, শোয়েবের (আ.) কন্যা সাফুরা, আইয়ুবের (আ.) স্ত্রী রহিমা, প্রিয় নবী (সা.)-এর স্ত্রীরা ‘উম্মাহাতুল মুমিনিন’সহ অসংখ্য মহীয়সী মাতৃত্বের মর্যাদাকে গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে মেলে ধরেছেন।

ইসলাম মায়েদের মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। পবিত্র কোরআনের ভাষায় ‘…মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন ও অতিকষ্টে প্রসব করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৫)
আবারও ‘…জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেন এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে…।
প্রিয় নবী (সা.)-এর কাছে এক সাহাবি জানতে চাইলেন আমার ওপর কার অধিকার সবচেয়ে বেশি? তিনি (সা.) বললেন, ‘তোমার মায়ের’। এভাবে তিনবার প্রশ্ন করলে তিনবারই তিনি উচ্চারণ করেন, মা। চতুর্থবার তিনি (সা.) উচ্চারণ করেন বাবা।
মা দিবসের সূচনা ১৯০৮ সালে।
বাংলাদেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালিত হয়। ‘মা’ শব্দটিতে যে আবেগ ও আত্মার সম্পর্ক লুকিয়ে আছে, তা কিছুটা হলেও কবি জসীমউদ্দীন তাঁর ‘পল্লী জননী’ কবিতায় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন :
‘…রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা,
করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।
শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে,
তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে…।
ছোট কুঁড়ে ঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু,
শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু…।’
তাজমহলের পাথরচাপা ইতিহাসের আড়ালে ঘুমাচ্ছেন এক মা, মাকড়সার মতো যিনি সন্তান জন্ম দিতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন! মমতাজ মহলের মৃত্যুর কারণ চৌদ্দতম সন্তানের জন্ম! অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মায়েরা সন্তানের জন্য সর্বস্ব লুটিয়ে দিয়েও নিদানের কালে বড়োই একা, অপাঙেক্তয়। অথচ করপোরেট কালচারে দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় উচ্চারিত :
‘মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু জেনো ভাই,
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
তিন ভুবনে নাই।
সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক
মাথার ‘পরে আজি,
অন্তরে মা থাকুন মম
ঝরুক স্নেহরাজি…’।
(কাজী কাদের নেওয়াজ)









