সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জেলার মধ্যে ২১টিতে একক প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগে।
ফলে মূলত বাকি ৩৮ জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। আর এসব জেলায়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের। কোথাও দল সমর্থিত প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর পছন্দ না হওয়ায় তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেন। কোথাও আবার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর পছন্দের প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিলেও তা স্থানীয় নেতাদের পছন্দ না হওয়ায় তাঁরা এর বিরোধিতা করেন।

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের মতপার্থক্যই ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের প্রধান কারণ। ওই জেলাগুলোর মধ্যে ১২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও দুই জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন।
তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, দলীয় কোন্দল নয়, নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এবারে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নমনীয়তা দেখানো হয় মূলত একতরফা নির্বাচনের দুর্নাম ঘোচানোর জন্যই।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় তাদের আবেদন চেয়েছিলাম আমরা। অনেকেই আবেদন করে। আমরা ৬১ জেলায় আমাদের সমর্থন জানিয়েছি। বেশ কিছু জেলায় দলের একাধিক প্রার্থী থেকে যায়। আমাদের আশা ছিল বিষয়টি মীমাংসা করতে পারব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয় নাই। ’
কাজী জাফর উল্যাহ আরো বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হয়েছে বলে অনেকে সমালোচনা করে থাকেন। আমরা এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে যেন সেই ধরনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে চেষ্টা করেছি। আমাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছিল, যেহেতু জেলা পরিষদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে না সুতরাং যারা নির্বাচন করতে চায় করুক। এ জন্য আমরা জেলা পরিষদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তেমন কঠোর বার্তা দিইনি। ’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন তো শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করব না। ’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২১ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা না থাকলে তো ৬১ জেলার এক-দুইটি বাদে কোথাও তো নির্বাচনই হতো না। তখন তো আপনারাই সমালোচনা করতেন। ’
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জুর পরাজয়ের পেছনে প্রধান কারণ স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্ব। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক ছেলুন দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন চুয়ডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর। টগর বিদ্রোহী প্রার্থী সেখ সামসুল আবেদীন খোকনের পক্ষে কাজ করেন।
নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর জামায়াত-বিএনপির ভোটারদের হুমকি দিয়েছেন। টাকা দিয়েও ভোট কিনেছেন। আমি যাতে জিততে না পারি তার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর। ’
জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অতীতে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন মাহফুজুর রহমান মঞ্জু। দলের নেতাকর্মীদের তিনি তোয়াক্কা করেন না। নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁকে পরাজিত হতে হয়েছে। তিনি হেরেছেন নিজের ব্যর্থতার করণে। ’
চাঁদপুর: চাঁদপুরে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে স্থানীয় চার সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আমিন রুহুল। চাঁদুপরের চার সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও মায়ার সমর্থন ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী ওচমান গনি পাটোয়ারীর প্রতি। নির্বাচনে মায়া সমর্থিত ওচমান গনি পাটোয়ারী জয়লাভ করেন।
জানা যায়, একসময় ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন ওচমান গনি পাটোয়ারী। কিন্তু বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর নানা ইস্যুতে তাঁদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরে, যার রেশ ধরে নির্বাচনে ওচমান গনিকে সমর্থন দেননি দীপু মনি। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ডা. দীপু মনি ও ডা. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া বিজয়ী ওচমান গনি পাটোয়ারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ও ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
পিরোজপুর: পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এ কে এম এ আউয়াল দল সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে মাঠে নামেন। নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থী শাহ আলম পরাজিত হন। পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেন শাহ আলম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যান পাঁচ লাখ এবং একজন মেম্বার (ইউপি সদস্য) দুই লাখ টাকায় পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে। জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকায় ভোট বেচাকেনা সহজ হয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এ কে এম এ আউয়াল নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এলাকায় অবস্থান করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, শপথ পাঠ করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা বিতরণ করেছেন। ’
নড়াইল: স্থানীয় সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সুভাষ বোসের সঙ্গে দলীয় কোন্দলের কারণে ৪১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ আয়ুব আলী। এখানে জয় পেয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব হোসেন। পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে সৈয়দ আয়ুব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমপি মুক্তিসহ তাঁদের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এদের কেউ কেউ আবার পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলার মতো আমার সঙ্গে মীরজাফরের ভূমিকা পালন করেছে। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, আমি মনে করছি এটাই হয়তো নির্বাচন। ’
পঞ্চগড়: দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু বকর ছিদ্দিক পরাজিত হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুল্লাহ বাচ্চু জয় পেয়েছেন।
পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বড় ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তোয়াবুর রহমান আবু বলেন, ‘আমাদের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে আমানুল্লাহ বাচ্চু ভোট কিনেছেন, যা আমরা পারিনি। এ ছাড়া অন্য বিদ্রোহী প্রার্থীরাও আমাদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছেন। ’
রাজশাহী: রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুর পরাজয়ের পেছনে রয়েছে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের প্রতি ভেতরে ভেতরে সমর্থন ছিল স্থানীয় বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতার। ভুলু জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও সংসদ সদস্যদের তেমন পাত্তা দিতেন না। এতে সংসদ সদস্যরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন; যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে।
মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মিয়াজান আলীর বিরুদ্ধে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন। নির্বাচনে জয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম রসুলের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন। প্রকাশ্যে বা গোপনে অনেক নেতাই গোলাম রসুলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু মিয়াজান আলীর পক্ষে আওয়ামী লীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই প্রচারণায় দেখা যায়নি।
শেরপুর: শেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দল সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পালের পরাজয়ের পেছনে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্ব বড় ভূমিকা রেখেছে। চন্দন কুমারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক সমর্থন দেন। কিন্তু স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য—কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও ফজলুল হক চানের সমর্থকরা চন্দন কুমারের পক্ষে ছিল না। জেলার রাজনীতিতে আতিক ও চন্দনের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বেশির ভাগ নেতাই তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর রুমানের পক্ষ নেন। শেষ পর্যন্ত রুমানই বিজয়ী হন।
নীলফামারী: আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকের পরাজয়ের পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দল বড় ভূমিকা রেখেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন জয়ী হন।
নিজের পরাজয়ের পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভূমিকাকে দায়ী করে মমতাজুল হক বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ জয়নাল আবেদীনের পক্ষ অবলম্বন করে তাঁকে (জয়নাল আবেদীনকে) নির্বাচনের জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন। আমাদের কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। এ কারণে আমার পরাজয় ঘটেছে। ’
মমতাজুল হক বলেন, দেওয়ান কামাল আহমেদ একাধিক দল বদল করে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর দরদ কম। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যে কাজ করেছেন সেটা কারো অজানা নেই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচনী কাজে আমাকেসহ দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করেননি। এমনকি দলের সভাপতি হিসেবেও নির্বাচনের কোনো বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেননি। এর পরও দলীয় প্রার্থী বিবেচনা করে আমিসহ নেতাকর্মীরা যে যার অবস্থান থেকে তাঁর পক্ষে কাজ করেছি। ’
সুনামগঞ্জ: স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট আওয়ামী লীগের সমর্থন থেকে বঞ্চিত হন। এখানে আওয়ামী লীগ এনামুল কবির ইমনকে সমর্থন দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী হন মুকুট। নির্বাচনে ইমনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন মুকুট। নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মুহিবুর রহমান মানিক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্বাচনে ইমনের পক্ষে ছিলেন। এ তিন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনেন মুকুট। ভোটাররা পক্ষে থাকায় নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মুকুটই জয়ী হন।
নির্বাচনে কয়েকটি জেলায় দল সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কাজ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। নরসিংদী থেকে সুমন বর্মণ জানান, নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান জয় পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু। হীরুর সমর্থন ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মতিনের দিকে। তবে ভোটাররা প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনে সায় না দেওয়ায় আবদুল মতিন পরাজিত হন।









