সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
চাকরিতে পুনর্বহাল চেয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ৫৪৭ জন কর্মকর্তা বাংরাদেশে ব্যাংকের গভর্নরের কাছে যে আবেদন করেছেন, তা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে চাকরিচ্যুত তিন শ জনের করা রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সানজিদ সিদ্দিকী।

লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা ও অদক্ষতার অভিযোগ তুলে চলতি বছর ২০ জুলাই আকস্মিকভাবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
পরে চাকরি ফিরে পেতে চাকরিচ্যুতরা ২৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও বেআইনিভাবে ৫৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমনকি চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
এই আবেদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ না নেওয়ায় শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল, মো. সাজ্জাদ ও রুমন খানসহ ৩০০ জন চাকরিচ্যুত হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
সানজিদ সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন অনেক কর্মকর্তা আছেন, যাদের চাকরির বয়স ৫ বছর। ফলে অদক্ষতা বা লক্ষ্য অর্জনের অজুহাতে তাঁদের চাকরিচ্যুতির সুযোগ নেই। তা ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
১৯৯১ সালের ব্যাংক-কম্পানি আইনের বিধান অনুসারে এই চাকরিচ্যুতি অবৈধ। আদালত রিটটি শুনে রুলসহ আদেশ দিয়েছেন।’
ব্যাংক কম্পানি আইনের ধারা ৪৫(১) ও ৪৯ ধারা অনুসারে চাকরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহার করে রিট আবেদনকারীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং চাকরিতে পুনর্বহাল করার আবেদন নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আল-আরাফাহ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।









