নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিবাদমান একটি জমির ওপর আদালত থেকে ১৪৫ ধারাজারি করা হলেও আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রাচীর ভেঙে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর মন্ডলের মোড়ের নাবিল ছাত্রবাসের পাশে মাসুদ নামে ব্যক্তি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ প্রাচির নির্মাণ করেছেন।
যদিও মাসুদ রানা যে জায়গার প্রাচীর ভেঙে রাস্তা করার চেষ্টা করছেন সেটি নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দলিলি সম্পত্তি। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃংখলা রক্ষায় আদালত থেকে ১৪৫ জারি করেন। তারপরও আদালতের নিদের্শনা অমান্য করে মাসুদ নজরুল ইসলামের ভেঙ্গা প্রাচিরের পাশে মাসুদ রাস্তা সমান করে সেখানে প্রাচির নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, নগরীর মির্জাপুর মোজার আরএস খতিয়ান ভুক্ত ৬৫, ৬৩ ও ৬৮ নং দাগে ১০.২৯ একর জমি রয়েছে। এই জমির মালিক আলহাজ নজরুল ইসলাম। এই জমির পূর্বপাশে রয়েছে একটি সীমানা প্রাচির। এই প্রাচিরের বয়স ৪০ বছর। প্রচারিরের পূর্ব পাশে ৬৯ দাগে তিন কাটা জমি রয়েছে ফাইজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। ফাইজুল ইসলামের ওই জমির উপর মামলা চলমান থাকার পরও তিনি জমিটি ধরমপুর এলাকার মাসুদ রানার কাছে বিক্রি করেছেন।

ফাইজুল ইসলামের দলিলে ৬৯ দাগের জায়গায় কোনো রাস্তা নেই। রাস্তা রয়েছে নজরুল ইসলামসহ চারজনের দাগে। রাস্তা বিহীন ওই জমি কেনার পর মাসুদ পাশে আলহাজ নজরুল ইসলামসহ ৪ জনের নির্মাণ করা পুরাতন প্রাচির ভেঙ্গে ফেলে। পরে সেখানে রাস্তা দেখানোর চেষ্টা করছেন ।
বিষয়টি নিয়ে একের অধিকবার মিমাংসায় বসা হয়েছে। এমনকি আদালতে মামলাও হয়েছে। প্রশাসন ও রাসিক থেকেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ৬৫, ৬৩ ও ৬৮ নং দাগের সাথে ৬৯ দাগের কোনো সম্পর্ক নাই। যার কারণে কেউই এর সুরাহা করতে পারেননি।
যার কারণে নজরুল ইসলামের সাথে মাসুদ রানার দ্বন্দ্ব চলছে। এরই প্রেক্ষিতে নজরুল ইসলামের ছেলে ইশতিয়াক আহমেদ বাদি হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ইশতিয়াক আহমেদ রাজশাহী সিটি করপোরেশনেও অভিযোগ দিয়েছেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদমান জমির উপর দুইপক্ষ যেনো না নামে সেজন্য ১৪৫ ধারা জারি করেন। কিন্তু মাসুদ রানা আদালতের নিদের্শনা উপক্ষে করে ওই ভাঙ্গা প্রাচিরের জায়গা সমান করে রাস্তা দেখোনোর জন্য পুনরায় প্রাচির নির্মাণ করেছেন।
যদিও পূর্বের প্রাচিরটি ভাঙ্গার পর নজরুল ইসলামের ছেলেরা পুনরায় সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করেন। সেই প্রাচীরও মামুদ রানা লোকজন নিয়ে ভেঙে দেয়।
জানা গেছে, আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞাজারির পর মাসুদ কৌশলে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছেন। তিনি আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা হলে বের হওয়ার রাস্তার প্রয়োজন। আদালত বিষয়টি দেখার পর সেখানে যেনো রাস্তা করার ব্যবস্থা করে দেন, এমন কুটকৌশল অবলম্বন করে তিনি বাড়ি নির্মাণ করছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মামলার বাদি ইশতিয়াক আহমেদ জানান, মাসুদ রানা জমিটি কেনার পর আমাদের জায়গায় থাকা প্রাচির ভেঙ্গে ফেলেছেন। প্রাচির ভেঙ্গে রাস্তা করার জন্য রাসিকে আবেদন করেছেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন রাসিকের রাস্তার সাথে সংযুক্ত করে রাস্তা নির্মাণ করে দিতে হবে। কিন্তু মাসুদের কেনা জায়গার দলিলে কোনো রাস্তা নেই। তিনি আমাদের পরাতন প্রাচির জোর করে ভেঙ্গে রাস্তা করার পায়তারা করছেন। এছাড়া তিনি প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জায়গা দখল নেয়ার চেষ্টা করছেন।
এব্যাপারে মাসুদ রানা জানান, প্রাচির ভাঙ্গার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, যদি ওই জায়গা নজরুল ইলামের হয় তাহলে তিনিই পাবেন। নজরুল ইসলামের জায়গায় আমি রাস্তা নেবোনা। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরাও বসেছেন। সেখানে মনোয়ারা বেগম চারটি দাগ উল্লেখ করে রাস্তা দিয়ে গেছেন। সেই জায়গা থেকে প্রাচির ভাঙ্গা হয়েছে।
এব্যাপারে রাসিকের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলা উদ্দিন আলাল জানান, ওই জায়গা নিয়ে বেশ কয়েকবার বসা হয়েছিল। জায়গাটি নজরুল ইসলামের হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। দুপক্ষই কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। যার কারণে ওই জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবো।









