সব খবর

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে মানবদেহে নেতিবাচক প্রভাব

নিউজ ডেস্ক১ জুলাই ২০১৮২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি এবং রোগীদের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ যেন নির্ভরতা ও স্বস্তির জায়গা। জটিল রোগ থেকে নিরাময় ও প্রাণ বাঁচাতে অ্যান্টিবায়োটিক আবিস্কৃৃত হলেও কারণে অকারণে এর প্রয়োগ চাহিদা বাড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। যথেচ্ছ ব্যবহার ও প্রয়োগের কারণে মানবদেহে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখছেন ওষুধপ্রযুক্তিবিদ ও চিকিৎসকরা। যা নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।

উনিশশত আটাশ সালে বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছত্রাক থেকে সর্বপ্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন। তা সে সময়ে পৃথিবীব্যাপি সংক্রমিত হাজারো মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই অভূতপূর্ব আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন পথের সন্ধান দেখায়।

অক্সফোর্ডে গুরুতর রোগাক্রান্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার দেহে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিনের প্রয়োগ হয় ১৯৪১ সালে, যার ফলশ্র“তিতে তার অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়। কিন্তু পাঁচ দিন পর পেনিসিলিয়ামের সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধাহত সৈনিকের ওপর বিজ্ঞানীরা পেনিসিলিনের সফল প্রয়োগ করলে অনেক সৈনিকের জীবন বাঁচে।

অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হতো। ফ্লেমিং আবিস্কৃত জৈব রাসায়নিক অ্যান্টিবায়োটিক মানবদেহে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন বন্ধ করে, ফলে মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠে। ধারাবাহিক গবেষণায়, প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের অতি আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ এসেছে বাজারে।

বহু জটিল রোগ নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিকের অবদান বিবেচনায় নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল তাকে। তবে পুরস্কার নেবার সময় দেয়া বক্তৃতায় তিনি অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারে মানবজাতির ববিষ্যত ক্ষতিরও আশঙ্কা করেছিলেন।

চিকিৎসা ও ওষুধ বিজ্ঞানে অ্যান্টিবায়োটিকের আশীর্বাদ সূচক ভূমিকার পাশাপাশি নানা আশংকার চিন্তা দানা বাধছে ক্রমেই, যা থেকে এখনই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ আসছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।