অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থ পাচার রোধে অগ্রগতি জানতে চেয়েছে এপিজি

নিউজ ডেস্ক৮ জুলাই ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ  ডেস্ক:

অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) প্রতিনিধি দল। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে রোববার এপিজি প্রতিনিধি দল এসব তথ্য জানতে চায়। বৈঠকে বাংলাদেশ অর্থ পাচার প্রতিরোধে নেয়া ‘কৌশলপত্র’ তুলে ধরে। এতে বলা হয়- বিদেশে টাকা পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় ভালো। কোনো সূচকে নিুমুখী নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে অর্থ পাচার প্রতিরোধে মানদণ্ড নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এপিজির প্রতিনিধি দল। প্রথম দিনে রোববার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে দলটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পৌনে দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নানা বিষয় ওঠে আসে।

বৈঠকে অংশ নেন- আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্বাহী পরিচালক মো. ইস্কান্দার মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সঙ্গে এপিজি প্রতিনিধিদের সভা হয়েছে। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের সফর শেষে এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিস্তারিত জানাবে।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম  বলেন, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না। যে বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে তা ঠিক করে এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা  জানান, অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ জাতীয় কৌশলপত্র (২০১৯-২০২১) প্রণয়ন করেছে। এপিজির প্রতিনিধিদের সামনে ওই কৌশলপত্র তুলে ধরা হয়। বলা হয়, অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আইন-২০১২ এর আওতায় কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল থেকে বহির্বিশ্বে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে যে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে প্রতিনিধি দলটি।

সূত্রমতে, আগামী বছর এপিজির পরবর্তী বার্ষিক সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ হবে বৈঠকের কো-চেয়ার। এর প্রস্তুতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিএফআইইউর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা  বলেন, রুটিন সফরে এপিজি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে।

প্রতিনিধি দলটি অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, ফলো-আপ অ্যাসেসমেন্ট ও মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক ইমপ্লিমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি) অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। আগামী বছর এপিজির বৈঠকে এ রিপোর্ট তুলে ধরবে।

এরপর বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক ভালো। এটি বৈঠকে প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে কোম্পানি আইন সংশোধনের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

জানানো হয়, এটি বিএফআইইউ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আইনটি সংশোধনের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে সংশোধিত আইনের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে আছে।

সূত্র আরও জানায়, অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং এ সংক্রান্ত অপরাধসংশ্লিষ্ট মামলা প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়। যেসব মামলা তদন্তাধীন আছে সেগুলো জরুরিভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া আমদানি ও রফতানির অন্তরালে বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করতে সব বন্দরে স্ক্যানার স্থাপন করা হচ্ছে বলে এপিজি প্রতিনিধিদের জানানো হয়।

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপের ভিত্তিতে তিন বছর অন্তর একটি দেশের ওপর মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করে এপিজি। এর আগে বাংলাদেশকে ২০১৬ সালে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে মূল্যায়নের জন্য এপিজির প্রতিনিধি দলটি এখন ঢাকায়।

২০১৬ সালের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল- বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ ও দেশের ভেতর সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। শুধু প্রযুক্তিগত উদ্যোগে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।