অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থ ঢালছেন প্রবাসীরাও

নিউজ ডেস্ক১৮ নভেম্বর ২০১৮৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচুর অর্থ ঢালছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সে কারণে রেমিটেন্সের গতি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে টাকা দিয়ে লবিং করছেন।

এদের অধিকাংশের লক্ষ্য দল ক্ষমতায় এলে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা করা, নতুন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেয়া। আরও নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় কেউ কেউ নির্বাচনে অর্থ ঢালছেন বলে জানা গেছে। অনেক প্রবাসী মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতিমধ্যেই নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন।

তৃণমূলে ভোটারদের আনুকূল্য পেতে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্নভাবে অর্থ বিতরণ শুরু করেছেন তারা।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো খবর। এসব অর্থ ভোটার তুষ্টির কাজে খরচ হবে। এতে অর্থনীতির পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষও সাময়িক উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের (জুলাই-অক্টোবর) প্রথম চার মাসে ৫১০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ৪৫৫ কোটি ডলার। মূলত নির্বাচনে প্রবাসীদের অর্থ জোগানের কারণে এবার মাত্র চার মাসে ৫৫ কোটি ডলার বেশি এসেছে; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৮৮ পয়সা দরে) প্রায় ৪ হাজার ৬১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এটি আরও বাড়বে। শুধু নভেম্বরের ৯ দিনেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। নভেম্বরের পুরো চিত্র যোগ হলে রেমিটেন্স আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে। তখন নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী আয় বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৯৬৯ কোটি ডলার বা ৬৬ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা আগের ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৭৯১ কোটি ডলার বা ৫৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী বছর রেমিটেন্স বেড়ে ছিল ১৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০০৮ সালের নির্বাচনে (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা দরে) প্রায় ১৩ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা জোগান দিয়েছেন প্রবাসীরা। একইভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা। যা এর আগের তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে সহজে অনুমেয়, জাতীয় নির্বাচনে কী পরিমাণ অর্থ ঢালছেন প্রবাসীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম  বলেন, প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের কম-বেশি অবদান থাকে।

কারণ কখনও নিজে, আবার কখনও আত্মীয়স্বজন প্রার্থী হয়। এতে মনোনয়ন ফরম তোলা থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণায় প্রচুর টাকার দরকার হয়। সে ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা টাকা নিয়ে আসতে পারেন; যা রেমিটেন্সে যোগ হয়। এটি ভালো।