অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থমন্ত্রীর বৈঠকের পরও শেয়ারবাজারে দরপতন: তিন বছর আগের অবস্থানে সূচক

নিউজ ডেস্ক১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার আবারও দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তিন বছর আগের অবস্থানে নেমে এসেছে।

এদিন লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৯২৮ পয়েন্টে। যা ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে এরচেয়ে সূচক কম ছিল ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। সেদিন সূচক ছিল ৪ হাজার ৯২৪ পয়েন্ট।

ডিএসইর পাশাপাশি এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। তবে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

শেয়ারবাজার নিয়ে বাজারের অংশীজনদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বৈঠকের পরও মঙ্গলবার দরপতন হয়েছে। শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে সোমবার বাজারের সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে বাজারে কোনো ধরনের গড়বড় হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিএসইসির অধীন একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

‘ইন্টারনাল অডিট কমিটি’ নামের এ কমিটি কোম্পানিগুলো যাতে শেয়ারের ন্যায্যমূল্য পায়, কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম যেন অতি মূল্যায়িত না হয়, সেদিকে নজর রাখবে। 

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেছেন, এখানে আজ আশ্বস্ত করব সবাইকে যে, আমরা পুঁজিবাজারকে সুশাসন দেব এবং আমরা গভর্ন্যান্সে ভালো করব। যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, মিসম্যাচ আছে, সেগুলো আমরা টেককেয়ার করব। এভাবে আমাদের পুঁজিবাজারকে আমরা একটি শক্তিশালী বাজারে রূপান্তরিত করব। সবাই প্রত্যাশা করেছিল অর্থমন্ত্রীর এই বৈঠককে ঘিরে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো দরপতন হয়েছে। ২০১০ সালে বড় ধসের পর ২০১৭ সাল থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে; ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু তার পরের বছর আবার কমতে শুরু করে সূচক। ২০১৯ সালে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে সবাই প্রত্যাশা করলেও তেমনটি হয়নি। দিন যত যাচ্ছে বাজারের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। ডিএসইএক্স ৫০০০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে।

বাজার পরিস্থিতি : এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ২৩৬টির। আর ৬৬টির দাম অপরিবর্তিত। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৩০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের পতন হলেও ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, জেএমআই সিরিঞ্জ, স্টাইল ক্রাফট, মুন্নু সিরামিক, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ১৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।