সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ টেলিভিশনের ধারাবাহিক ‘জল জোছনা’ দিয়ে এক বছর পর অভিনয়ে ফিরেছেন শানারেই দেবী শানু। প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগামী মেলায় নতুন বই প্রকাশেরও। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
‘জবা’ ধারাবাহিকের এক বছর পর ‘জল জোছনা’ দিয়ে শুটিংয়ে ফিরেছেন।

কেমন লাগছে?
গত বছর দীপ্ত টিভির ‘জবা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলাম। এরপর তো দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলো। অচলাবস্থা থেকে ধীরে ধীরে দেশ সচল হতে শুরু করল। তবে বিনোদন জগত মনে হয় একটু বেশিই সময় নিয়েছে।
অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী এখনো কাজে ফিরতে পারেননি। এক কথায়, কাজের ফ্লো এখনো ঠিকমতো তৈরি হয়নি। ‘জল জোছনা’ ধারাবাহিকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের। সোহেল আরমান ভাই আমাকে যখন ধারাবাহিকটিতে অভিনয়ের কথা বললেন, খুব ভালো লেগেছিল।
একে তো বিরতি শেষ হবে, তার ওপর আবার আরমান ভাইয়ের মতো লেখক, নির্দেশক ও অভিনেতার কাজ। খুব উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে শুটিং করেছি। ঢাকা ও নবাবগঞ্জে নাটকটির শুটিং হয়েছে।
গল্প কেমন?
সোহেল আরমান ভাইয়ের রুচি এবং সৃজনশীলতা সম্পর্কে অনেকে জানেন। তিনি যখন আমাকে পাণ্ডুলিপিটা দিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে গত শতাব্দীর শেষ দশকে যে ধরনের নাটক হতো এটা সেই ধরনের নাটক।
আমি পড়ে দেখলাম সত্যিই তাই। সংলাপ, চিত্রনাট্য ও গল্পের পটভূমি যেন নব্বইয়ের দশকের কথা মনে করিয়ে দেয়। পারিবারিক ও সামাজিক গল্পের এই ধারাবাহিকে আমার চরিত্রের নাম কাজল, যে রুদ্র [সোহেল আরমান ভাই]-এর প্রেমিকা। এই ধারাবাহিকটি আবার মানুষ পরিবার নিয়ে দেখতে পারবেন।
২০০৫ সালে শোবিজে পা রেখেছিলেন। দুই দশক পূর্ণ হয়েছে এরমধ্যে। যাত্রাটা কেমন ছিল?
কীভাবে যে দুই দশক কেটে গেল বুঝতে পারিনি। মনে হয় ২০০৫ সালের পরই এই ২০২৫ সাল চলছে! এ সময়টা আমি শিখতে চেষ্টা করেছি। অনেক গুণী অভিনেতা ও নির্মাতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। তাঁদের ভালোবাসা ও স্নেহ পেয়েছি। উপভোগ করার চেষ্টা করেছি জার্নিটা। তবে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, আমার কেন জানি মনে হয় নিজের সেরাটা এখনো দিতে পারিনি। অপেক্ষায় আছি সুযোগের। এমন একটা চরিত্রে নিজেকে পর্দায় তুলে ধরতে চাই, যেটা আমাকে তৃপ্তি দেবে। বলতে পারব, এবার আমি সন্তুষ্ট।
২০১৮ সালে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এরপর আর বড় পর্দায় আপনাকে দেখা গেল না কেন?
যে রকম প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম, পাইনি। তা ছাড়া বাণিজ্যিক ছবির জন্যও আমি প্রস্তুত নই। এখন অবশ্য নানা ধরনের ছবি নির্মাণ হচ্ছে, সাড়াও পাচ্ছে। ইচ্ছা আছে ভালো কোনো গল্প পেলে বড় পর্দায় ফেরার।
এখনকার নাটকের নাম, সংলাপ, গল্প কেমন লাগে আপনার?
সন্তুষ্ট নই, বরং কষ্ট পাই। আমাদের সময় ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘কবি’, ‘বৈরত’-এর মতো একের পর এক নাটক হয়েছে। দর্শকও পছন্দ করেছে। আর এখন তো কী কী নাম, গল্প-সংলাপ তো আরো সস্তা। নির্মাতা, অভিনেতা ও প্রযোজকদের একটা কথা মনে রাখতে হবে, শিল্পমাধ্যম সমাজকে প্রভাবিত করে। অতএব, সুস্থ সাংস্কৃতির চর্চা করতেই হবে। নইলে সমাজ দিন দিন নষ্টের পথে যাবে।
লেখালেখির কী খবর?
বইমেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটা সুখবর শুনেছেন কি না! গত বই মেলায় আমার ‘বাঘ মানুষ’ এবার আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার পেতে যাচ্ছে। মণিপুরি মিথলজির ওপর বইটি পাঠকরাও খুব পছন্দ করেছেন। এবারও মণিপুরি মিথলজির ওপর কিছু একটা লিখব। তবে সেটা উপন্যাস না অন্য কিছু হবে সেটা নিয়েই প্রস্তুতি চলছে। এখন তো অভিনয় নিয়ে আছি, তাই একটু সময় লাগছে। আমি আবার দুটি কাজ একসঙ্গে করতে পারি না।









